ফরিদপুরে গলায় টিউমার অপারেশনের পর ১৫ বছর বয়সী কিশোরী মিমের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের মধ্যে প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হাসপাতালটির নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করে দেওয়া হয়।
জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান ও ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম। উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জ্যোতির্ময় চৌধুরী, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশীদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে নানা অনিয়ম, অপারেশন থিয়েটারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২৩-২৪ সালেই শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এসব গুরুতর অনিয়মের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা এবং আংশিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম বলেন, “হাসপাতালটিতে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। জনস্বার্থে প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।”
এর আগে, ১৯ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিযোগ ওঠে—গলায় টিউমার অপারেশনের সময় চিকিৎসকের অবহেলায় মিমের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, অপারেশনের সময় গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, নাক-কান-গলা (ইএনটি) রোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে অন্য বিভাগের চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালেও প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছিল। সর্বশেষ এই অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মাসুম/সাএ
এডমিন 












