যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আবাসিক হলের ডাইনিংয়ের খাবার খেয়ে শতাধিক নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ৭০ জনের অধিক শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অসুস্থদের চিকিৎসা খরচ বহন, স্বাস্থ্যকর খাবার প্রদান, হলে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে শিথিলতা এনে প্রশাসন আগামী তিন দিন সকল ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের দেখতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তিনি ভর্তি হওয়া অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সকল চিকিৎসা খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলেও জানান তিনি। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন যশোর জেলার সিভিল সার্জন।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ছাত্রীর মধ্যে বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং তীব্র শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। এছাড়া অনেকের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলেও জানা যায়। এ সময় অধিকসংখ্যক সহপাঠী রোগীদের পাশে ভিড় করায় সেবাদানে বিঘ্ন ঘটে। পরে সুস্থ সহপাঠীদের বেশি সংখ্যায় হাসপাতালে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কি ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে জানতে চাইলে দায়িত্বরত ডাক্তার সাংবাদিকদের জানান, ল্যাব টেস্টের জন্য স্যাম্পল পাঠানো হয়েছে। ফলাফল আসতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে, তখন বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছে হল কর্তৃপক্ষ, যেখানে সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও সেবিকারা থাকবেন। এছাড়া অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংকটকালীন এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এর মধ্যে রয়েছে আগামী সোমবার পর্যন্ত সকল বিভাগের সব ক্লাস-পরীক্ষা ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত রাখা, অসুস্থ সকল শিক্ষার্থীর চিকিৎসা খরচ বহন করা, স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করা এবং ছাত্রী হলের নিচতলায় শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসার জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া। এছাড়াও উক্ত দিনের ঘটনা এবং মেডিকেলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয় খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের উপস্থিতিতে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের ডাইনিংয়ে প্রায় ১৮৬ জন শিক্ষার্থী খাবার গ্রহণ করেন। পরদিন ভোর ৪টা থেকে একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার খোলার পর অসুস্থ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে সেখানে ভিড় করেন। একপর্যায়ে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এবং কিছু চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকেন। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসার পরও সুস্থ না হওয়ায় ৭০ জনের অধিক অসুস্থ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শহরের আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সালাউদ্দিন/সাএ
এডমিন 









