শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে তানজিলা (১৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঘরিসার ইউনিয়নের বাহির কুশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত অপু বেপারি উপজেলার ঘরিসার এলাকার রাশেল বেপারির ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন মাস আগে পরিবারের অমতে ঘরিসার ইউনিয়নের বাহির কুশিয়া গ্রামের রাশেল বেপারির ছেলে অপু (২২) সঙ্গে একই উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের দুবাই প্রবাসী আকবর খানের মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করেন ওই তরুণী। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। তারা অভিযোগ করেন, নিহতের স্বামী মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিনও তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে, স্থানীয়রা জানান, দাম্পত্য কলহের বিষয়টি আগে থেকেই এলাকায় জানা ছিল। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
এ ব্যাপারে নিহত গৃহবধূ তানজিলার মা আলেয়া বেগম বলেন, আমার মেয়েকে মাদকসক্ত অপু যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করেছে। পরে রাতের কোনও এক সময় তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ঘরের জানালার গ্রিলে সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম মাল বলেন, পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।” ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
এডমিন 









