০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কের পাশে পশুর হাট নয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • 3

চট্টগ্রামে আসন্ন ঈদে সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, ফেরিঘাটে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঈদকেন্দ্রিক দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। 

সভায় তিনি জানান, রাজনৈতিক মামলা সংক্রান্ত প্রায় ২০০টি মামলার নিষ্পত্তির প্রস্তাব গত মাসেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ঈদুল আজহাকে ঘিরে সড়ক দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ এড়াতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, মহাসড়ক কিংবা রেললাইনের পাশে কোনো অবস্থাতেই গরুর হাট বসানো যাবে না। যানজট এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়ে কর্ণফুলী এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পশুর হাট না বসানোর কথাও জানান তিনি।

ফেরি পারাপারে যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, কুমিরা-গুপ্তছড়া ও সন্দ্বীপ রুটসহ সব ফেরিঘাটে বাস বা ট্রাক ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে নিরাপদভাবে পারাপার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ফেরিঘাট এলাকায় নির্দেশনামূলক ব্যানার টানানোরও নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যাবে না। সন্ত্রাস, অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি ও মাদককারবার কঠোরভাবে দমনের নির্দেশও দেন তিনি।

এ সময় ঈদকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো উৎসবের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় গত মাসের সার্বিক অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ঈদুল আজহা সুষ্ঠুভাবে উদযাপন, চোরাচালান দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

নতুন ব্রিজ এলাকা ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা গেলে যানজট অনেকাংশে কমবে। রাস্তার ওপর বাজার ও দোকান বসানো এবং যেখানে-সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড় করানো বন্ধ করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও দুর্বৃত্তদের তালিকা প্রস্তুত করে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় আরও বলা হয়, আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বা যানজট তৈরি করে জনজীবন অচল করা যাবে না। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধে মালিকপক্ষকে অনুরোধ করা হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নুরুল আমিন, হুমাম কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ এনামুল হক, শাহজাহান চৌধুরী ও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশ, সিএমপি, নৌবাহিনী, এনএসআই, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এমআরএএইচ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

নওগাঁয় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজে ধাক্কা, নিহত ২

সড়কের পাশে পশুর হাট নয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে আসন্ন ঈদে সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, ফেরিঘাটে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঈদকেন্দ্রিক দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। 

সভায় তিনি জানান, রাজনৈতিক মামলা সংক্রান্ত প্রায় ২০০টি মামলার নিষ্পত্তির প্রস্তাব গত মাসেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ঈদুল আজহাকে ঘিরে সড়ক দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ এড়াতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, মহাসড়ক কিংবা রেললাইনের পাশে কোনো অবস্থাতেই গরুর হাট বসানো যাবে না। যানজট এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়ে কর্ণফুলী এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পশুর হাট না বসানোর কথাও জানান তিনি।

ফেরি পারাপারে যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, কুমিরা-গুপ্তছড়া ও সন্দ্বীপ রুটসহ সব ফেরিঘাটে বাস বা ট্রাক ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে নিরাপদভাবে পারাপার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ফেরিঘাট এলাকায় নির্দেশনামূলক ব্যানার টানানোরও নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যাবে না। সন্ত্রাস, অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি ও মাদককারবার কঠোরভাবে দমনের নির্দেশও দেন তিনি।

এ সময় ঈদকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো উৎসবের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় গত মাসের সার্বিক অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ঈদুল আজহা সুষ্ঠুভাবে উদযাপন, চোরাচালান দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

নতুন ব্রিজ এলাকা ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা গেলে যানজট অনেকাংশে কমবে। রাস্তার ওপর বাজার ও দোকান বসানো এবং যেখানে-সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড় করানো বন্ধ করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি ও দুর্বৃত্তদের তালিকা প্রস্তুত করে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় আরও বলা হয়, আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বা যানজট তৈরি করে জনজীবন অচল করা যাবে না। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধে মালিকপক্ষকে অনুরোধ করা হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নুরুল আমিন, হুমাম কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ এনামুল হক, শাহজাহান চৌধুরী ও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশ, সিএমপি, নৌবাহিনী, এনএসআই, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এমআরএএইচ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।