১১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেটের আহ্বান

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • 4

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে জনগণকেন্দ্রিক, জলবায়ু-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, গবেষক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। তারা বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন ও জলবায়ু খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের পাশাপাশি বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সময় এখনই: নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেট’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। এতে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপে বলা হয়, নতুন সরকার প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুব দক্ষতা উন্নয়ন, জেন্ডারসমতা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এই বাজেট হবে তার বাস্তবায়নের প্রথম বড় পরীক্ষা।

তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জলবায়ু সংকটের কারণে নারী, তরুণ ও জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সুরক্ষাকবচ তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মত দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত একশনএইড বাংলাদেশের বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে জেন্ডার বাজেট জিডিপির ৫ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এডিপিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ মাত্র ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন) ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, এখন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ছে। জলবায়ু অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক তহবিল এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়কে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি জানান, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্বন ট্রেডিং নিয়ে কাজ করছে। কার্বন ট্রেডিংয়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. গোলাম মোছাদ্দেক বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৈষম্য কমানো। ইতোমধ্যে ১৫টি খাতে ক্লাইমেট জাস্টিস যুক্ত করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শতভাগ ডিজিটাল রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, শুধু জিডিপি বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। জেন্ডার বাজেট কমে যাওয়ার প্রবণতায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এতে নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন জানান, তরুণদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত এসএমই ঋণ ও আউটসোর্সিং খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজেট প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, জেন্ডার বাজেটকে শুধু নারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কাঠামোর অংশ। তিনি অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতি, নিরাপদ পরিবহন ও তৈরি পোশাক খাতের বাইরে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর তাগিদ দেন।

জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত এক দশকে প্রায় ২৫টি মন্ত্রণালয় জলবায়ু কার্যক্রমে যুক্ত হলেও গড় বাস্তবায়ন সক্ষমতা মাত্র ৭ শতাংশ। দুর্বল জবাবদিহির কারণে জলবায়ু ঝুঁকি কমছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি বলেন, নারী, তরুণ ও জলবায়ু ইস্যুকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক প্রকল্প বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ঋণনির্ভর উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।

সংলাপে নারী কৃষকদের জন্য উন্নতমানের বীজসহ সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান মোসাম্মৎ নীপা আক্তার। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নারী কৃষকরা অনেক সময় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আসন্ন বাজেটের জন্য সংলাপ থেকে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ ৪০ শতাংশে উন্নীত করা, নারী উদ্যোক্তা তহবিল গঠন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করা, যুব বাজেট স্টেটমেন্ট প্রকাশ, উপকূলীয় তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা তহবিল বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণের জন্য পৃথক বাজেট কোড চালু করা।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, জেন্ডার বাজেট ও আইন থাকা সত্ত্বেও কার্যকর সমন্বয় ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের অভাবে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা কমছে না। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কৌশলগত বরাদ্দের দাবি জানান।

আরএএস/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুকন্যা হাবিবার নাম এখন ‘জুবাইদা’

নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেটের আহ্বান

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে জনগণকেন্দ্রিক, জলবায়ু-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, গবেষক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। তারা বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন ও জলবায়ু খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের পাশাপাশি বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সময় এখনই: নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেট’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। এতে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপে বলা হয়, নতুন সরকার প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুব দক্ষতা উন্নয়ন, জেন্ডারসমতা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এই বাজেট হবে তার বাস্তবায়নের প্রথম বড় পরীক্ষা।

তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জলবায়ু সংকটের কারণে নারী, তরুণ ও জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সুরক্ষাকবচ তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মত দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত একশনএইড বাংলাদেশের বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে জেন্ডার বাজেট জিডিপির ৫ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এডিপিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ মাত্র ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন) ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, এখন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ছে। জলবায়ু অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক তহবিল এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়কে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি জানান, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্বন ট্রেডিং নিয়ে কাজ করছে। কার্বন ট্রেডিংয়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. গোলাম মোছাদ্দেক বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৈষম্য কমানো। ইতোমধ্যে ১৫টি খাতে ক্লাইমেট জাস্টিস যুক্ত করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শতভাগ ডিজিটাল রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, শুধু জিডিপি বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। জেন্ডার বাজেট কমে যাওয়ার প্রবণতায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এতে নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন জানান, তরুণদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত এসএমই ঋণ ও আউটসোর্সিং খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজেট প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, জেন্ডার বাজেটকে শুধু নারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কাঠামোর অংশ। তিনি অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতি, নিরাপদ পরিবহন ও তৈরি পোশাক খাতের বাইরে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর তাগিদ দেন।

জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত এক দশকে প্রায় ২৫টি মন্ত্রণালয় জলবায়ু কার্যক্রমে যুক্ত হলেও গড় বাস্তবায়ন সক্ষমতা মাত্র ৭ শতাংশ। দুর্বল জবাবদিহির কারণে জলবায়ু ঝুঁকি কমছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি বলেন, নারী, তরুণ ও জলবায়ু ইস্যুকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক প্রকল্প বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ঋণনির্ভর উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।

সংলাপে নারী কৃষকদের জন্য উন্নতমানের বীজসহ সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান মোসাম্মৎ নীপা আক্তার। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নারী কৃষকরা অনেক সময় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আসন্ন বাজেটের জন্য সংলাপ থেকে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ ৪০ শতাংশে উন্নীত করা, নারী উদ্যোক্তা তহবিল গঠন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করা, যুব বাজেট স্টেটমেন্ট প্রকাশ, উপকূলীয় তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা তহবিল বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণের জন্য পৃথক বাজেট কোড চালু করা।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, জেন্ডার বাজেট ও আইন থাকা সত্ত্বেও কার্যকর সমন্বয় ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের অভাবে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা কমছে না। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কৌশলগত বরাদ্দের দাবি জানান।

আরএএস/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।