০১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন, ভিসি পরিবর্তন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • 2

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা শহরের আশপাশে সকলের জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন ও সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি)কে ১০ দিনের মধ্যে পরিবর্তনের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে।

আর দাবি বাস্তবায়ন না হলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলন।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. রবিউল লেইছ রোকেসের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন- সংগঠনের সদস্য সচিব জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা মুনাজ্জির হোসেন সুজন।

এসময় সাবেক চেয়ারম্যান আকবর আলী, চিত্তরঞ্জন তালুকদার, যোগেস্বর দাস, সুখেন্দু সেন হারু, বদরুল কাদির সিহাবসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তাগন বলেন,অনির্বাচিত সরকার আমলে এই উপাচার্য একটি গোষ্ঠীর মনোনীত হওয়ায় তার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকবল নিয়োগের ৮০ শতাংশ তাকে নিযুক্ত করা গোষ্ঠীর লোকজনকে এবং সুনামগঞ্জ জেলা তথা সিলেট বিভাগের বাহির থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম,প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিন্ডিকেট গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা অভিযোগ করেন, জেলা সদর আসনের সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছে,যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আগামী ১০ দিনের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তন এবং তার সময়ে পরিচালিত বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।ভিসির ঘন ঘন অনুপস্থিতির কথা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেয়া হয়।

সংগঠনের সদস্য সচিব মোনাজ্জির হোসেন সুজন লিখিত বক্তব্যে বলেন বিগত সরকারের সময় জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সুষম উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসও জেলা সদর থেকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা শহরের আশপাশে সকলের জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুনামগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রত্যাশিত সময় দিচ্ছেন না।বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জে স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা থাকলেও উপাচার্য এককভাবে শুধু শান্তিগঞ্জে স্থাপনের জন্য একনেকে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে তার পছন্দের ব্যক্তিদের সিন্ডিকেট সদস্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জেলার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরেই বাস্তবায়নের নজির রয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তারা সুনামগঞ্জেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

কুশল/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ইটের আঘাতে যুবককে হত্যাচেষ্টা, ৩ আসামি কারাগারে

সুনামগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন, ভিসি পরিবর্তন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

আপডেট সময়ঃ ১২:০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা শহরের আশপাশে সকলের জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন ও সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি)কে ১০ দিনের মধ্যে পরিবর্তনের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে।

আর দাবি বাস্তবায়ন না হলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলন।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. রবিউল লেইছ রোকেসের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন- সংগঠনের সদস্য সচিব জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা মুনাজ্জির হোসেন সুজন।

এসময় সাবেক চেয়ারম্যান আকবর আলী, চিত্তরঞ্জন তালুকদার, যোগেস্বর দাস, সুখেন্দু সেন হারু, বদরুল কাদির সিহাবসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তাগন বলেন,অনির্বাচিত সরকার আমলে এই উপাচার্য একটি গোষ্ঠীর মনোনীত হওয়ায় তার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকবল নিয়োগের ৮০ শতাংশ তাকে নিযুক্ত করা গোষ্ঠীর লোকজনকে এবং সুনামগঞ্জ জেলা তথা সিলেট বিভাগের বাহির থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম,প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিন্ডিকেট গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা অভিযোগ করেন, জেলা সদর আসনের সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছে,যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আগামী ১০ দিনের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তন এবং তার সময়ে পরিচালিত বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।ভিসির ঘন ঘন অনুপস্থিতির কথা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেয়া হয়।

সংগঠনের সদস্য সচিব মোনাজ্জির হোসেন সুজন লিখিত বক্তব্যে বলেন বিগত সরকারের সময় জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সুষম উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসও জেলা সদর থেকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা শহরের আশপাশে সকলের জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুনামগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রত্যাশিত সময় দিচ্ছেন না।বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জে স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা থাকলেও উপাচার্য এককভাবে শুধু শান্তিগঞ্জে স্থাপনের জন্য একনেকে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে তার পছন্দের ব্যক্তিদের সিন্ডিকেট সদস্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জেলার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরেই বাস্তবায়নের নজির রয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তারা সুনামগঞ্জেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

কুশল/সাএ