জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেলেনি প্রতিকার। অবশেষে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে নিজেদের পকেটের টাকায় রাস্তা মেরামত শুরু করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়ায় গ্রামবাসীকে রাস্তা সংস্কারের কাজ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার মামুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের একমাত্র ইট সলিং রাস্তাটি ৫-৬ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর আর কোনো সংস্কার না হওয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের ইট উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, রাস্তাটি মেরামতের জন্য তারা স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউলের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
স্থানীয়রা জানান, কৃষিপণ্য ভ্যানে করে বাজারে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী নিজেরা বৈঠক করে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলে ৫০ হাজার টাকার তহবিল গঠন করেন। সেই টাকা দিয়েই শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় রাস্তা সংস্কারের কাজ।
রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজার, ইউসুফ ও জালাল বলেন, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে গিয়ে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে নিজেরাই টাকা তুলে রাস্তা মেরামত করছি। আমাদের দাবি, দ্রুত এই রাস্তাটি যেন কার্পেটিং (পাকা) করা হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য রেজাউল বলেন, ‘গ্রামবাসী এসেছিল। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ না থাকায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি।’
মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল বলেন, ‘এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছে। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারি বরাদ্দ এলে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়ন কাজ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের বিষয়টি জানা ছিল না। ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আগামী বরাদ্দে এই রাস্তার কাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মাহফুজ রহমান/এসআর
এডমিন 















