০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোন ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • 8

ভূপৃষ্ঠের নিচে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়াই হলো ভূমিকম্প। সব ভূমিকম্প কিন্তু একই ধরনের ক্ষতি করে না। এর মধ্যে সবচেয়ে ভীতি ছড়ায় অগভীর ভূমিকম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কেন এই অগভীর ভূমিকম্প এত বিপজ্জনক?

উৎস থাকে মাটির কাছাকাছি

সাধারণত শূন্য থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীরতার ভূমিকম্পকে অগভীর বলা হয়। এর কেন্দ্র থাকে মানুষের বসতির একদম কাছাকাছি। ফলে মাটির নিচের তীব্র কম্পন সরাসরি আঘাত হানে ওপরে।

শক্তির অপচয় কম হয়

গভীর ভূমিকম্পের শক্তি ভূপৃষ্ঠে আসতে অনেক সময় পায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় এর শক্তি অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু অগভীর কম্পনের শক্তি পথেই শেষ হয় না। পূর্ণ শক্তি নিয়ে এটি মানুষের ঘরবাড়িতে আঘাত করে।

নির্দিষ্ট এলাকায় তীব্র আঘাত

অগভীর ভূমিকম্পের শক্তি চারদিকে বেশি ছড়াতে পারে না। এটি একটি নির্দিষ্ট এলাকার ওপর ভর করে। ফলে অল্প জায়গার মধ্যে ঝাঁকুনির মাত্রা হয় মারাত্মক। এটি শহরের নিচে বোমা ফাটার মতো কাজ করে।

মাটির তারল্য ও ধস

তীব্র ঝাঁকুনিতে মাটির ভেতরের পানি ওপরে উঠে আসে। এতে শক্ত মাটি হঠাৎ নরম কাদার মতো আচরণ করে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় সয়েল লিকুইফ্যাকশন বা মাটির তারল্য বলে। এর ফলে বহুতল ভবন হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। মাটির উপরিভাগে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়।

পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস

পার্বত্য অঞ্চলে এই কম্পন হলে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে। পাহাড় ধসে পুরো গ্রাম মাটিচাপা পড়ার ঝুঁকি থাকে। সমুদ্রের তলদেশে হলে তৈরি হতে পারে দানবীয় সুনামি।

ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশ ঝুঁকিতে

বাংলাদেশ ও এর আশপাশে বেশ কিছু সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ফল্ট লাইনে অগভীর ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকি আছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এমন কম্পন হলে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হবে। তাই এখনই ভবন নির্মাণ কোড কঠোরভাবে মানা জরুরি।

সূত্র: ইউএসজিএস, আল-জাজিরা
কেএএ/

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

কোন ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ভূপৃষ্ঠের নিচে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়াই হলো ভূমিকম্প। সব ভূমিকম্প কিন্তু একই ধরনের ক্ষতি করে না। এর মধ্যে সবচেয়ে ভীতি ছড়ায় অগভীর ভূমিকম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কেন এই অগভীর ভূমিকম্প এত বিপজ্জনক?

উৎস থাকে মাটির কাছাকাছি

সাধারণত শূন্য থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীরতার ভূমিকম্পকে অগভীর বলা হয়। এর কেন্দ্র থাকে মানুষের বসতির একদম কাছাকাছি। ফলে মাটির নিচের তীব্র কম্পন সরাসরি আঘাত হানে ওপরে।

শক্তির অপচয় কম হয়

গভীর ভূমিকম্পের শক্তি ভূপৃষ্ঠে আসতে অনেক সময় পায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় এর শক্তি অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু অগভীর কম্পনের শক্তি পথেই শেষ হয় না। পূর্ণ শক্তি নিয়ে এটি মানুষের ঘরবাড়িতে আঘাত করে।

নির্দিষ্ট এলাকায় তীব্র আঘাত

অগভীর ভূমিকম্পের শক্তি চারদিকে বেশি ছড়াতে পারে না। এটি একটি নির্দিষ্ট এলাকার ওপর ভর করে। ফলে অল্প জায়গার মধ্যে ঝাঁকুনির মাত্রা হয় মারাত্মক। এটি শহরের নিচে বোমা ফাটার মতো কাজ করে।

মাটির তারল্য ও ধস

তীব্র ঝাঁকুনিতে মাটির ভেতরের পানি ওপরে উঠে আসে। এতে শক্ত মাটি হঠাৎ নরম কাদার মতো আচরণ করে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় সয়েল লিকুইফ্যাকশন বা মাটির তারল্য বলে। এর ফলে বহুতল ভবন হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। মাটির উপরিভাগে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়।

পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস

পার্বত্য অঞ্চলে এই কম্পন হলে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে। পাহাড় ধসে পুরো গ্রাম মাটিচাপা পড়ার ঝুঁকি থাকে। সমুদ্রের তলদেশে হলে তৈরি হতে পারে দানবীয় সুনামি।

ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশ ঝুঁকিতে

বাংলাদেশ ও এর আশপাশে বেশ কিছু সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ফল্ট লাইনে অগভীর ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকি আছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এমন কম্পন হলে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হবে। তাই এখনই ভবন নির্মাণ কোড কঠোরভাবে মানা জরুরি।

সূত্র: ইউএসজিএস, আল-জাজিরা
কেএএ/