০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবেই হোক আমরা জিততাম না: হালান্ড

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • 3

ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পরও নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাক্কেনের বিতর্কিত দল নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। তার মতে, প্রথম একাদশ খেললেও ম্যাচের ফল ভিন্ন হতো না। বরং নকআউট পর্বের কথা ভেবেই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথম একাদশে দশটি পরিবর্তন এনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাক্কেন। তখনও গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জনের গাণিতিক সম্ভাবনা ছিল নরওয়ের। তবু কার্যত দ্বিতীয় সারির দল মাঠে নামানোয় সমর্থক ও ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন।

আগের ম্যাচের একাদশ থেকে শুধু ফ্রেডরিক আউর্সনেসই শুরুর একাদশে ছিলেন। নরওয়ের দুর্বল একাদশের সুযোগ নিয়ে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে ৪-১ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় ফ্রান্স। আরলিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আন্তোনিও নুসাসহ দলের বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে ছিলেন। সোলবাক্কেনের লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বের জন্য তাদের সতেজ রাখা।

ম্যাচ শেষে সোলবাক্কেন জানান, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। দলের লক্ষ্য যতদূর সম্ভব টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়া, আর সেই ভাবনা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দ্য টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, ‘আমি আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতাম। আমরা এখানে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যেতে এসেছি এবং সেই লক্ষ্য পূরণে যেটা সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে, সেটাই করেছি। শুধু একটি বিষয়েই খারাপ লাগছে দূর থেকে আসা সমর্থকেরা আর্লিং, মার্টিন ও অন্য তারকাদের খেলতে দেখতে চেয়েছিলেন।’

হালান্ডও কোচের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং মনে করেন, পূর্ণ শক্তির দল খেললেও ফ্রান্সকে হারানো সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের আগেই বলেছিলাম, এটা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই, এবং আমি এখনও একই অবস্থানে আছি। ফ্রান্স যাই হোক আমাদের চেয়ে ভালো দল ছিল। আমাদের সেরা একাদশ খেললেও তাদের হারাতে পারতাম বলে আমি মনে করি না।’

ফ্রান্সের শক্তিমত্তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। তার মতে, ফরাসি দলে প্রতিটি পজিশনেই বিশ্বমানের ফুটবলার রয়েছে এবং তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। হালান্ড বলেন, ‘ফ্রান্সের প্রতিটি জায়গায় বিশ্বমানের খেলোয়াড়। কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে একজনের পর আরেকজন আসে। তারা যেকোনো দলের জন্য বড় হুমকি। সত্যি বলতে, আমার বিশ্বাস তারা অনেক দূর যাবে। আমাদের বিপক্ষে তারা যা দেখিয়েছে, সেটা ভয়ঙ্কর ছিল।’

গ্রুপ পর্ব শেষ করে এখন নরওয়ের সব মনোযোগ রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট লড়াইয়ে হালান্ড, ওডেগার্ড ও প্রথম পছন্দের অন্য খেলোয়াড়দের সতেজ অবস্থায় পাওয়ার আশা করছেন সোলবাক্কেন। এখন দেখার বিষয়, গ্রুপ পর্বে বিশ্রাম দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নকআউটে নরওয়ের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনে।

আরএএইচইউএল/আইএন

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

যেভাবেই হোক আমরা জিততাম না: হালান্ড

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পরও নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাক্কেনের বিতর্কিত দল নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। তার মতে, প্রথম একাদশ খেললেও ম্যাচের ফল ভিন্ন হতো না। বরং নকআউট পর্বের কথা ভেবেই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথম একাদশে দশটি পরিবর্তন এনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাক্কেন। তখনও গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জনের গাণিতিক সম্ভাবনা ছিল নরওয়ের। তবু কার্যত দ্বিতীয় সারির দল মাঠে নামানোয় সমর্থক ও ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন।

আগের ম্যাচের একাদশ থেকে শুধু ফ্রেডরিক আউর্সনেসই শুরুর একাদশে ছিলেন। নরওয়ের দুর্বল একাদশের সুযোগ নিয়ে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে ৪-১ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় ফ্রান্স। আরলিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আন্তোনিও নুসাসহ দলের বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে ছিলেন। সোলবাক্কেনের লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বের জন্য তাদের সতেজ রাখা।

ম্যাচ শেষে সোলবাক্কেন জানান, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। দলের লক্ষ্য যতদূর সম্ভব টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়া, আর সেই ভাবনা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দ্য টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, ‘আমি আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতাম। আমরা এখানে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যেতে এসেছি এবং সেই লক্ষ্য পূরণে যেটা সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে, সেটাই করেছি। শুধু একটি বিষয়েই খারাপ লাগছে দূর থেকে আসা সমর্থকেরা আর্লিং, মার্টিন ও অন্য তারকাদের খেলতে দেখতে চেয়েছিলেন।’

হালান্ডও কোচের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং মনে করেন, পূর্ণ শক্তির দল খেললেও ফ্রান্সকে হারানো সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের আগেই বলেছিলাম, এটা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই, এবং আমি এখনও একই অবস্থানে আছি। ফ্রান্স যাই হোক আমাদের চেয়ে ভালো দল ছিল। আমাদের সেরা একাদশ খেললেও তাদের হারাতে পারতাম বলে আমি মনে করি না।’

ফ্রান্সের শক্তিমত্তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। তার মতে, ফরাসি দলে প্রতিটি পজিশনেই বিশ্বমানের ফুটবলার রয়েছে এবং তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। হালান্ড বলেন, ‘ফ্রান্সের প্রতিটি জায়গায় বিশ্বমানের খেলোয়াড়। কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে একজনের পর আরেকজন আসে। তারা যেকোনো দলের জন্য বড় হুমকি। সত্যি বলতে, আমার বিশ্বাস তারা অনেক দূর যাবে। আমাদের বিপক্ষে তারা যা দেখিয়েছে, সেটা ভয়ঙ্কর ছিল।’

গ্রুপ পর্ব শেষ করে এখন নরওয়ের সব মনোযোগ রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট লড়াইয়ে হালান্ড, ওডেগার্ড ও প্রথম পছন্দের অন্য খেলোয়াড়দের সতেজ অবস্থায় পাওয়ার আশা করছেন সোলবাক্কেন। এখন দেখার বিষয়, গ্রুপ পর্বে বিশ্রাম দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নকআউটে নরওয়ের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনে।

আরএএইচইউএল/আইএন