৪০ বছর বয়সেও ফুটবলের সব যুক্তিকে যেন ভুল প্রমাণ করে চলেছেন লুকা মদ্রিচ। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে এই মিডফিল্ডার আবারও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে বৃহস্পতিবার টরন্টোতে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি শুধু দলকে নেতৃত্বই দিচ্ছেন না, নিজের পারফরম্যান্স দিয়েও সবাইকে মুগ্ধ করছেন।
ঘানার বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, এই অভিজ্ঞ ফুটবলার এখনও শারীরিক সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন। নিকোলা ভ্লাসিচের জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি মদরিচ ম্যাচে চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। ৯২ শতাংশ সফল পাস দেন এবং বল ছাড়াও দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।
মদরিচের সতীর্থ ভ্লাসিচ বলেন, ‘আমি শপথ করে বলছি, মনে হচ্ছিল সে যেন ১০ বছর পেছনে ফিরে গেছে। সত্যি বলতে, ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে লুকার সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি ছিল এটি। সে ছিল অবিশ্বাস্য।’
২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পেতার সুচিচও ক্রোয়েশিয়ার অভিযানে অধিনায়ক মদ্রিচের প্রভাবের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “ম্যাচের পর আমি তাকে বলেছিলাম, ‘তুমি যেন ২০ বছরের তরুণের মতো খেলছ।’ সে দ্বৈরথে জিতেছে, বল নিয়ে ছিল অসাধারণ। সে আমাদের নেতা এবং সেরা খেলোয়াড়। যত দিন ইচ্ছা, তত দিন সে খেলতে পারে।”
মদরিচের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রতিফলন দেখা যায় পরিসংখ্যানেও। অপটার তথ্য অনুযায়ী, ৪০ বছর ২৯১ দিন বয়সে তিনি ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। ঘানার বিপক্ষে সেই অ্যাসিস্ট জাতীয় দলের হয়ে তার অবসরের সময়ও আরও কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, এই বিশ্বকাপই হবে ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ টুর্নামেন্ট।
জাতীয় দলের হয়ে রেকর্ড ২০১টি ম্যাচ খেলা মদরিচ এখন পর্তুগালের বিপক্ষে মাঠে নামছেন এমন এক দলের প্রতীক হিসেবে, যারা প্রজন্ম পরিবর্তনের মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ক্রোয়েশিয়া শিবিরে প্রতিপক্ষের প্রতি যথেষ্ট সম্মান থাকলেও আত্মবিশ্বাসেরও কোনো ঘাটতি নেই।
ভ্লাসিচ বলেন, ‘পর্তুগাল আমাদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানে এবং তারা জানে আমরা কতটা বিপজ্জনক। যেমন আমরা তাদের শক্তির কথা বলি, তারাও আমাদের নিয়ে একইভাবে ভাবে। ম্যাচটি খুব ছোট ছোট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হবে।’
৪১তম জন্মদিনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকলেও লুকা মদরিচ এখনও ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের মুখ। তার নেতৃত্বে দলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করার স্বপ্ন দেখছে।
আরআর/এমএমআর
এডমিন 




