০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধীদের ধরতে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ করা হবে: র‍্যাব

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • 0

রাজধানীতে ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ বা আরও কঠোর আইন প্রয়োগের কৌশল অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

আদাবরে ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের বর্তমান প্রধান ফরিদ আহমেদ ওরফে অ্যাক্সেল বাবুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নবনির্বাচিত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আদাবরের ঘটনাকে তাঁরা কোনো বিচ্ছিন্ন ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি রাজধানীতে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোর বেপরোয়া হয়ে ওঠার একটি উদাহরণ। এ কারণে অভিযানের কৌশলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং অপরাধীদের দ্রুত দমনে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ অনুসরণ করা হবে।

অ্যাক্সেল বাবুসহ গ্রেপ্তার ৬

পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে এজেন্টকে কুপিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় একদল ব্যক্তি। এ ঘটনার পর গতকাল বিকেলে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা উদ্যানের কাছে ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে যায় পুলিশ।

এ সময় পুলিশের ওপর ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ আহত হন। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন বর্তমানে কারাগারে আছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের পর তাঁর সরাসরি নেতৃত্বে চক্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও সংগঠনটি ভেঙে যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারের অনুপস্থিতিতে তাঁর অনুসারীদের একটি বড় অংশ অ্যাক্সেল বাবুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়। বর্তমানে মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

র‍্যাব জানায়, এ ঘটনার পর গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহমেদ ওরফে অ্যাক্সেল বাবু (৫৭), আবু সাইদ (৩৩), রাশেদ খন্দকার (৩২), লিটন (২৮), তৌসিফ (৩০) ও তারিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাক্সেল বাবু ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতা দেন। আর আবু সাইদ এই দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করলেই অপরাধী চক্র নির্মূল হয় না। কারণ, এসব চক্রের পেছনে থাকে প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক।

র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দ্রুত বিচার হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়বে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

চট্টগ্রামে ক্রিকেট, গ্যালারিজুড়ে যেন আর্জেন্টিনা

অপরাধীদের ধরতে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ করা হবে: র‍্যাব

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

রাজধানীতে ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ বা আরও কঠোর আইন প্রয়োগের কৌশল অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

আদাবরে ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের বর্তমান প্রধান ফরিদ আহমেদ ওরফে অ্যাক্সেল বাবুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নবনির্বাচিত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আদাবরের ঘটনাকে তাঁরা কোনো বিচ্ছিন্ন ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি রাজধানীতে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোর বেপরোয়া হয়ে ওঠার একটি উদাহরণ। এ কারণে অভিযানের কৌশলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং অপরাধীদের দ্রুত দমনে ‘অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং’ অনুসরণ করা হবে।

অ্যাক্সেল বাবুসহ গ্রেপ্তার ৬

পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে এজেন্টকে কুপিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় একদল ব্যক্তি। এ ঘটনার পর গতকাল বিকেলে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা উদ্যানের কাছে ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে যায় পুলিশ।

এ সময় পুলিশের ওপর ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ আহত হন। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন বর্তমানে কারাগারে আছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের পর তাঁর সরাসরি নেতৃত্বে চক্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও সংগঠনটি ভেঙে যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারের অনুপস্থিতিতে তাঁর অনুসারীদের একটি বড় অংশ অ্যাক্সেল বাবুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়। বর্তমানে মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

র‍্যাব জানায়, এ ঘটনার পর গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহমেদ ওরফে অ্যাক্সেল বাবু (৫৭), আবু সাইদ (৩৩), রাশেদ খন্দকার (৩২), লিটন (২৮), তৌসিফ (৩০) ও তারিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাক্সেল বাবু ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতা দেন। আর আবু সাইদ এই দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করলেই অপরাধী চক্র নির্মূল হয় না। কারণ, এসব চক্রের পেছনে থাকে প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক।

র‍্যাব-২–এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দ্রুত বিচার হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়বে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।