০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র খরায় ঝরছে লিচুর গুটি, শঙ্কায় চাষিরা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রচণ্ড খরা ও তাপদাহে লিচুর গুটি ঝরে যাচ্ছে। এতে লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। দেশি লিচু হিসেবে পরিচিত মোজাফ্ফরপুরী জাতের লিচুর গুটি বেশি ঝরছে। পাশাপাশি বোম্বাই লিচুর গুটিও ঝরা শুরু হয়েছে।

রসালো ও সুস্বাদু লিচু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ঈশ্বরদীতে চৈত্রের শুরুতে গাছে মুকুল আসে এবং চৈত্রের শেষে মুকুল থেকে লিচুর সবুজ গুটি দেখা যায়। এখন লিচু গাছের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে ছোট ছোট সবুজ গুটি। এ বছর প্রতিটি গাছে রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছিল। মুকুল থেকে গুটিও বেশ ভালো হয়েছে। তাই এবার চাষিরা লিচুর ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু গত ১৫ দিনের প্রচণ্ড তাপদাহে লিচুর গুটি ঝরে পরতে শুরু করেছে। তাই লিচু চাষিদের স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। চৈত্র মাসে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি লিচু গাছে এবার ভালো মুকুল এসেছিল। মুকুল থেকে লিচুর গুটিও ভালো হয়েছে। এবার লিচুর ভালো ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ ও লিচু চাষিরা।

সরেজমিনে উপজেলার লিচুগ্রাম হিসেবে পরিচিত মিরকামারী, মানিকনগর, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, বাঁশেরবাদা, জয়নগর, সাহাপুর, আওতাপাড়া, চরসাহাপুর ও বাঁশেরবাদা ঢুকেই চোখে পড়ে সারি সারি লিচুর বাগান। লিচুর পাতার মাঝে সবুজ গুটি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর গুটি বেশি। প্রায় প্রতিটি গাছেই প্রচুর গুটি।

উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের লিচুচাষি আমজাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবার লিচু গাছে রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছিল। কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড খরতাপে লিচুর গুটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। তীব্র রোদ ও খরতাপের কারণে গুটি ঝরে পরতে শুরু করেছে। এভাবে গুটি ঝরে পড়া অব্যাহত থাকলে লিচুচাষিদের ভালো ফলনের স্বপ্নভঙ্গ হবে।

মানিকনগর গ্রামের লিচু চাষি জহরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুল ও গুটি দুটিই ভালো। কয়েকদিনের প্রচণ্ড খরার কারণে গাছের লিচুর গুটি ঝরতে শুরু করেছে। তাপদাহের কারণে প্রতিবছর কিছু গুটি ঝরে যায়। লিচু গাছের শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ গুটি ঝরে গেলে এটি স্বাভাবিক কিন্তু এর চেয়ে বেশি ঝরে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাতে ও সকালে পানি এবং ওষুধ স্প্রে করে গুটি ঝরা ঠেকানো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তীব্র খরায় ঝরছে লিচুর গুটি, শঙ্কায় চাষিরা

মানিকনগর গ্রামের কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী মোস্তফা জামান নয়ন বলেন, কয়েকদিনের প্রচণ্ড খরার কারণে লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। চাষিরা গুটি ঝরা রোধ করতে আমাদের কাছে এসে পরামর্শ চাইছেন। আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গুটি ঝরা রোধে চাষিদের কীটনাশক দিচ্ছি।

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত লিচু চাষি আব্দুল জলিল (কিতাব মণ্ডল) জাগো নিউজকে বলেন, লিচুর গুটি ঝরছে। তবে অস্বাভাবিক হারে ঝরছে না। লিচুর গুটি ঝরা রোধে বাগানে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে গুটি ঝরা অনেকাংশে কমে যাবে। এবার যেহেতু প্রতিটি গাছে অন্যান্যবারের চেয়ে গুটি বেশি, চাষিরা এবার ভালো ফলনের আশা করছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, এবার লিচু গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। মুকুল থেকে গুটিও ভালো হয়েছে। কয়েকদিন হলো তীব্র দাপদাহে গুটি ঝরে পড়া শুরু হয়েছে। লিচু বাগানে নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেখ মহসীন/এমএন/জেআইএম

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

তীব্র খরায় ঝরছে লিচুর গুটি, শঙ্কায় চাষিরা

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রচণ্ড খরা ও তাপদাহে লিচুর গুটি ঝরে যাচ্ছে। এতে লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। দেশি লিচু হিসেবে পরিচিত মোজাফ্ফরপুরী জাতের লিচুর গুটি বেশি ঝরছে। পাশাপাশি বোম্বাই লিচুর গুটিও ঝরা শুরু হয়েছে।

রসালো ও সুস্বাদু লিচু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ঈশ্বরদীতে চৈত্রের শুরুতে গাছে মুকুল আসে এবং চৈত্রের শেষে মুকুল থেকে লিচুর সবুজ গুটি দেখা যায়। এখন লিচু গাছের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে ছোট ছোট সবুজ গুটি। এ বছর প্রতিটি গাছে রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছিল। মুকুল থেকে গুটিও বেশ ভালো হয়েছে। তাই এবার চাষিরা লিচুর ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু গত ১৫ দিনের প্রচণ্ড তাপদাহে লিচুর গুটি ঝরে পরতে শুরু করেছে। তাই লিচু চাষিদের স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। চৈত্র মাসে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি লিচু গাছে এবার ভালো মুকুল এসেছিল। মুকুল থেকে লিচুর গুটিও ভালো হয়েছে। এবার লিচুর ভালো ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ ও লিচু চাষিরা।

সরেজমিনে উপজেলার লিচুগ্রাম হিসেবে পরিচিত মিরকামারী, মানিকনগর, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, বাঁশেরবাদা, জয়নগর, সাহাপুর, আওতাপাড়া, চরসাহাপুর ও বাঁশেরবাদা ঢুকেই চোখে পড়ে সারি সারি লিচুর বাগান। লিচুর পাতার মাঝে সবুজ গুটি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর গুটি বেশি। প্রায় প্রতিটি গাছেই প্রচুর গুটি।

উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের লিচুচাষি আমজাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবার লিচু গাছে রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছিল। কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড খরতাপে লিচুর গুটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। তীব্র রোদ ও খরতাপের কারণে গুটি ঝরে পরতে শুরু করেছে। এভাবে গুটি ঝরে পড়া অব্যাহত থাকলে লিচুচাষিদের ভালো ফলনের স্বপ্নভঙ্গ হবে।

মানিকনগর গ্রামের লিচু চাষি জহরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুল ও গুটি দুটিই ভালো। কয়েকদিনের প্রচণ্ড খরার কারণে গাছের লিচুর গুটি ঝরতে শুরু করেছে। তাপদাহের কারণে প্রতিবছর কিছু গুটি ঝরে যায়। লিচু গাছের শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ গুটি ঝরে গেলে এটি স্বাভাবিক কিন্তু এর চেয়ে বেশি ঝরে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাতে ও সকালে পানি এবং ওষুধ স্প্রে করে গুটি ঝরা ঠেকানো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তীব্র খরায় ঝরছে লিচুর গুটি, শঙ্কায় চাষিরা

মানিকনগর গ্রামের কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী মোস্তফা জামান নয়ন বলেন, কয়েকদিনের প্রচণ্ড খরার কারণে লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। চাষিরা গুটি ঝরা রোধ করতে আমাদের কাছে এসে পরামর্শ চাইছেন। আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গুটি ঝরা রোধে চাষিদের কীটনাশক দিচ্ছি।

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত লিচু চাষি আব্দুল জলিল (কিতাব মণ্ডল) জাগো নিউজকে বলেন, লিচুর গুটি ঝরছে। তবে অস্বাভাবিক হারে ঝরছে না। লিচুর গুটি ঝরা রোধে বাগানে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে গুটি ঝরা অনেকাংশে কমে যাবে। এবার যেহেতু প্রতিটি গাছে অন্যান্যবারের চেয়ে গুটি বেশি, চাষিরা এবার ভালো ফলনের আশা করছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, এবার লিচু গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। মুকুল থেকে গুটিও ভালো হয়েছে। কয়েকদিন হলো তীব্র দাপদাহে গুটি ঝরে পড়া শুরু হয়েছে। লিচু বাগানে নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেখ মহসীন/এমএন/জেআইএম