ফরিদপুর শহরের পরিচিত মুখ লায়লা বাউল। শহরের অলিগলি, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, শ্মশানঘাট কিংবা হাটবাজার-যেখানে মানুষের ভিড়, সেখানেই খালি পায়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে। কখনো লোকগান, কখনো আবার পুরোনো বাংলা গান গেয়ে নিজের মতো সময় কাটান এই ভবঘুরে নারী। তবে এবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ মে) বিকেলে ফরিদপুর শহরের ময়েজ মঞ্জিলে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ। সেখানেই খালি গলায় নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন লায়লা বাউল। তার গাওয়া ‘নয়নভরা জল গো তোমার’ গানটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। এক রাতের মধ্যেই ভিডিওটি নেটিজেনদের নজরকাড়ে।
অনুষ্ঠানে দেখা যায়, জীর্ণ শাড়ি পরে খালি পায়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মনের আনন্দে গান গাইছেন লায়লা। তার কণ্ঠ ও গায়কীতে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার প্রশংসা করেন। কেউ কেউ আবার ভারতের ভাইরাল শিল্পী রানু মণ্ডলের সঙ্গে তুলনাও করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লায়লা বাউল দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার এক মেয়ে ও একটি পালক ছেলে রয়েছে। সন্তানরা বড় হয়ে সংসারী হলেও লায়লা আর সংসারে ফেরেননি। শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে গান গেয়েই কেটে যাচ্ছে তার জীবন।
কথিত আছে, কোনো ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি পায়ে হেঁটে আজমীর শরীফ পর্যন্ত চলে যান। লোকসংগীতের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শিল্পীদের গানও গাইতে পারেন তিনি।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে তাকে শহরে দেখছি। তিনি খুবই ভালো মনের মানুষ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান, গান গাইেন, কিন্তু কারও কোনো ক্ষতি করেন না। অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই তাকে গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার গান এভাবে ভাইরাল হবে, তা ভাবিনি।’
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোফিজ ইমাম মিলন বলেন, ‘অনেক বছর আগে থেকেই লায়লার গান শুনে মুগ্ধ আমি। শিল্পকলা একাডেমিতে গানের চর্চা চলার সময় চুপচাপ বসে থাকতে দেখতাম তাকে। একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন এভাবে ঘুরে বেড়ান? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মানুষ দেখি। দুনিয়াতে কত রকমের মানুষ, কারও সঙ্গে কারও মিল নাই। মানুষ দেখতে আমার ভাল্লাগে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম ও সাম্যেরও কবি। লায়লার খালি গলায় সুরেলা গান শুনে আমি নিজেও মুগ্ধ হয়েছি।’

আরও পড়ুন:
যারা পাঁচটা ছবিও করেনি তারাও দুই-তিনজন বডিগার্ড নিয়ে ঘোরে: বাপ্পারাজ
এখন ব্রাজিল সাপোর্ট করতে অনেক লজ্জা লাগে : হিমি
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান পলাশ, নাট্যকার ড. অনুপম হায়াৎ, প্রবীণ সাংবাদিক বদিউজ্জামান চৌধুরীসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
এমএমএফ/জেআইএম
এডমিন 


















