১২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিড ডে মিলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হলো কাঁচা ডিম, অভিভাবকদের ক্ষোভ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • 1

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের মহিষারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলে বনরুটির সঙ্গে সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বনরুটির সঙ্গে ডিম দেওয়া হলেও পরে দেখা যায় ডিমগুলো সিদ্ধ নয়, কাঁচা। অনেক শিক্ষার্থী ডিম খেতে না পেরে তা বাড়িতে নিয়ে যায়।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের বনরুটির সঙ্গে ডিম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডিমগুলো সিদ্ধ ছিল না। কেউই ডিম খেতে পারেনি। পরে কেউ বাড়িতে নিয়ে গেছে, আবার কেউ ফেলে দিয়েছে।

শিক্ষার্থী রুমাইসার মা রাবিয়া সুলতানা বলেন, সরকার শিশুদের পুষ্টির কথা চিন্তা করে মিড ডে মিল চালু করেছে। সেখানে কাঁচা ডিম দেওয়া খুবই দুঃখজনক। আমার মেয়ে ডিমটি বাড়িতে নিয়ে এসেছে। পরে আমরা সিদ্ধ করে তাকে খেতে দিয়েছি। বিদ্যালয়ে যদি ঠিকমতো খাবার প্রস্তুত করে দেওয়া না হয়, তাহলে এ কর্মসূচির উদ্দেশই ব্যাহত হবে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মিড ডে মিল বিতরণে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে মিড ডে মিলের ঠিকাদার মহসিন বলেন, মহিলাদের মাধ্যমে ডিম সিদ্ধ করে সরবরাহ করা হয়। সময়ের স্বল্পতার কারণে হয়তো ডিমগুলো সিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের কাঁচা ডিম দেওয়া উচিত হয়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহাগ বৈষ্ণব বলেন, ঈদের ছুটির পর বিদ্যালয় খোলার পর থেকে যেসব দিনে ডিম দেওয়ার কথা ছিল, সেসব দিনই সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়ে ২৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত মিড ডে মিলের সুবিধা পেয়ে থাকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দানিসুজ্জামান বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মিড ডে মিল কর্মসূচির ঠিকাদার সরাসরি অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তা যথাযথভাবে অধিদপ্তরে অবহিত করি।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি দূর করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে সরকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু করেছে। তবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারে শিক্ষার্থীরা। ফলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এসকে রাসেল/কেএইচকে/এএসএম

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ডা. শাফীকে নিয়ে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী

মিড ডে মিলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হলো কাঁচা ডিম, অভিভাবকদের ক্ষোভ

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের মহিষারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলে বনরুটির সঙ্গে সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বনরুটির সঙ্গে ডিম দেওয়া হলেও পরে দেখা যায় ডিমগুলো সিদ্ধ নয়, কাঁচা। অনেক শিক্ষার্থী ডিম খেতে না পেরে তা বাড়িতে নিয়ে যায়।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের বনরুটির সঙ্গে ডিম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডিমগুলো সিদ্ধ ছিল না। কেউই ডিম খেতে পারেনি। পরে কেউ বাড়িতে নিয়ে গেছে, আবার কেউ ফেলে দিয়েছে।

শিক্ষার্থী রুমাইসার মা রাবিয়া সুলতানা বলেন, সরকার শিশুদের পুষ্টির কথা চিন্তা করে মিড ডে মিল চালু করেছে। সেখানে কাঁচা ডিম দেওয়া খুবই দুঃখজনক। আমার মেয়ে ডিমটি বাড়িতে নিয়ে এসেছে। পরে আমরা সিদ্ধ করে তাকে খেতে দিয়েছি। বিদ্যালয়ে যদি ঠিকমতো খাবার প্রস্তুত করে দেওয়া না হয়, তাহলে এ কর্মসূচির উদ্দেশই ব্যাহত হবে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মিড ডে মিল বিতরণে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে মিড ডে মিলের ঠিকাদার মহসিন বলেন, মহিলাদের মাধ্যমে ডিম সিদ্ধ করে সরবরাহ করা হয়। সময়ের স্বল্পতার কারণে হয়তো ডিমগুলো সিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের কাঁচা ডিম দেওয়া উচিত হয়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহাগ বৈষ্ণব বলেন, ঈদের ছুটির পর বিদ্যালয় খোলার পর থেকে যেসব দিনে ডিম দেওয়ার কথা ছিল, সেসব দিনই সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়ে ২৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত মিড ডে মিলের সুবিধা পেয়ে থাকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দানিসুজ্জামান বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মিড ডে মিল কর্মসূচির ঠিকাদার সরাসরি অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তা যথাযথভাবে অধিদপ্তরে অবহিত করি।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি দূর করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে সরকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু করেছে। তবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারে শিক্ষার্থীরা। ফলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এসকে রাসেল/কেএইচকে/এএসএম