বিশ্বকাপে মুখ ঢেকে কথা বলায় প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন লাল কার্ড দেখার পর একই ধরনের ঘটনায় ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যামকে শাস্তি না দেওয়ায় ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অনেকের প্রশ্ন, তাহলে কি নতুন নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না?
ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচে জুড বেলিংহ্যামকে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ওই ঘটনায় কোনো কার্ড দেখাননি ম্যাচ রেফারি। কারণ, ফিফার নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী শুধু মুখ ঢেকে কথা বলাই শাস্তিযোগ্য নয়; সেটি কোন পরিস্থিতিতে করা হয়েছে, সেটিই মূল বিষয়।
ফিফার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্ক, সংঘর্ষ বা উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলেন, তাহলে রেফারি তাকে শাস্তি দিতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হলো ক্যামেরা ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য আপত্তিকর মন্তব্য আড়াল করা ঠেকানো।
বেলিংহ্যামের ক্ষেত্রে ঘানার জর্ডান আয়ুর সঙ্গে তার কথোপকথনকে স্বাভাবিক ও অ-বিতর্কিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে রেফারি বা ভিএআর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখেননি।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এরপর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে তাকে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়ারলুইজি কলিনা নতুন নির্দেশিকা ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, ‘কথোপকথন যদি স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তর্ক-বিতর্কের সময় মুখ ঢেকে কথা বললে সেটি ভিন্নভাবে দেখা হবে।’
তাই বেলিংহ্যাম ও আলমিরনের ঘটনার মধ্যে পার্থক্য মূলত পরিস্থিতিগত। একজনের ক্ষেত্রে ছিল স্বাভাবিক আলাপ, অন্যজনের ক্ষেত্রে ছিল উত্তপ্ত বিতর্ক। আর সেই কারণেই একই অঙ্গভঙ্গি হলেও দুই ফুটবলারের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।
আরআর/এসকেডি/জেআইএম
এডমিন 










