০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার, কিশোরী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • 1

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিজের ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা শফিকুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ঘরুয়াকান্দা এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। শফিকুল ইসলাম (বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ী পশ্চিমপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা) ওই উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী আগে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করত। পাঁচ মাস আগে সে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে শফিকুল ইসলাম, তার মা ও ওই কিশোরী একসঙ্গে বসবাস করতেন। বাড়িতে আসার কয়েক দিন পর থেকেই শফিকুল ভয় দেখিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে নিয়মিত ওই কিশোরী বাবার লালসার শিকার হতে থাকে।

পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস আগে কিশোরীটি ময়মনসিংহে এক নারী চিকিৎসকের বাসায় কাজে যোগ দেয়। সেখানে এক মাস কাজ করার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে ওই চিকিৎসকের সন্দেহ হয়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। একপর্যায়ে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। বুধবার বিকেলে খলিশাউড় ইউনিয়নের গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা শফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়। সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীকে থানায় এনে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নিয়মিত মামলা নেওয়া হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিকেল সাড়ে টার দিকে গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান। গ্রেফতার আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এইচ এম কামাল/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার, কিশোরী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিজের ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা শফিকুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ঘরুয়াকান্দা এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। শফিকুল ইসলাম (বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ী পশ্চিমপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা) ওই উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী আগে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করত। পাঁচ মাস আগে সে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে শফিকুল ইসলাম, তার মা ও ওই কিশোরী একসঙ্গে বসবাস করতেন। বাড়িতে আসার কয়েক দিন পর থেকেই শফিকুল ভয় দেখিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে নিয়মিত ওই কিশোরী বাবার লালসার শিকার হতে থাকে।

পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস আগে কিশোরীটি ময়মনসিংহে এক নারী চিকিৎসকের বাসায় কাজে যোগ দেয়। সেখানে এক মাস কাজ করার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে ওই চিকিৎসকের সন্দেহ হয়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। একপর্যায়ে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। বুধবার বিকেলে খলিশাউড় ইউনিয়নের গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা শফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়। সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীকে থানায় এনে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নিয়মিত মামলা নেওয়া হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিকেল সাড়ে টার দিকে গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান। গ্রেফতার আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এইচ এম কামাল/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।