০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী, হত্যার অভিযোগ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • 1

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়েছেন স্বামী। অভিযোগ উঠেছে, স্বামী হাফিজ মোল্লার নির্যাতনের কারণের স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, আর এজন্যেই মরদেহ মর্গে ফেলে রেখে পালিয়েছেন স্বামী।

জানা গেছে, নিহত গৃহবধূ সামিয়া আক্তারের (২৭) বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগরে। তার বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লাও জয়নগর এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া মারা যান। এর পরপরই তার স্বামী হাফিজ মোল্লা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ মর্গে রেখে দেয়।

পরে খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন সামিয়ার স্বজনরা। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বাড়িতে এনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন হাফিজ। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগে ছিল। সামিয়া ছাড়াও তার আরও দুজন স্ত্রী রয়েছে।

নাম প্রকাশর অনিচ্ছুক স্থানীয় তিনজন বাসিন্দা জানান, হাফিজ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহত সামিয়ার ছোট ভাই মো. হাসান বলেন, ১৬ জুন আমার বোনকে হাফিজ পিটিয়ে আহত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বোন মারা যায়। তার মৃত্যুর খবর জানতে পেরেই মরদেহ মর্গে রেখে হাফিজ কৌশলে পালিয়ে যান।

হাসান আরও বলেন, ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানাকে জানায়। পুলিশ এসে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ও তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সামিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার মেয়েটা খুব ভালো ছিল। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নানামুখী নির্যাতন চালিয়ে আসছিল হাফিজ। নির্যাতনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলাম। মেয়ের হত্যাকারী হাফিজের ফাঁসি চাই।

তবে ঘটনার পর থেকে হাফিজ মোল্লা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর বাবা থানায় আগেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানা থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। যেখানে একজন নারী বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন মর্মে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা শেরেবাংলা নগর থানাকে সুরতহাল প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। সেই প্রতিবেদন পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/এসএএইচ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী, হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়েছেন স্বামী। অভিযোগ উঠেছে, স্বামী হাফিজ মোল্লার নির্যাতনের কারণের স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, আর এজন্যেই মরদেহ মর্গে ফেলে রেখে পালিয়েছেন স্বামী।

জানা গেছে, নিহত গৃহবধূ সামিয়া আক্তারের (২৭) বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগরে। তার বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লাও জয়নগর এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া মারা যান। এর পরপরই তার স্বামী হাফিজ মোল্লা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ মর্গে রেখে দেয়।

পরে খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন সামিয়ার স্বজনরা। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বাড়িতে এনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন হাফিজ। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগে ছিল। সামিয়া ছাড়াও তার আরও দুজন স্ত্রী রয়েছে।

নাম প্রকাশর অনিচ্ছুক স্থানীয় তিনজন বাসিন্দা জানান, হাফিজ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহত সামিয়ার ছোট ভাই মো. হাসান বলেন, ১৬ জুন আমার বোনকে হাফিজ পিটিয়ে আহত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বোন মারা যায়। তার মৃত্যুর খবর জানতে পেরেই মরদেহ মর্গে রেখে হাফিজ কৌশলে পালিয়ে যান।

হাসান আরও বলেন, ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানাকে জানায়। পুলিশ এসে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ও তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সামিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার মেয়েটা খুব ভালো ছিল। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নানামুখী নির্যাতন চালিয়ে আসছিল হাফিজ। নির্যাতনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলাম। মেয়ের হত্যাকারী হাফিজের ফাঁসি চাই।

তবে ঘটনার পর থেকে হাফিজ মোল্লা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে বক্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর বাবা থানায় আগেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানা থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। যেখানে একজন নারী বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন মর্মে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা শেরেবাংলা নগর থানাকে সুরতহাল প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। সেই প্রতিবেদন পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/এসএএইচ