রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রাজধানীর মোহাম্মদপুরে থামেনি কিশোর গ্যাং ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য। ৫ আগস্টের পর খোলস পাল্টে নতুন পরিচয়ে মাঠে নেমেছে পুরোনো চাঁদাবাজরা। এবার যুবদলের নাম ভাঙিয়ে সোয়েব ইবনে আলম নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর সশস্ত্র হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) ভোররাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সোয়েব ইবনে আলম ‘মিশন ট্রেডিং লিঃ’-এর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ওই রাতে গ্রাম থেকে আসা অতিথিদের রিসিভ করে বাসায় ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন।
সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে ভুক্তভোগী জানান, রাত ৩টা ৪১ মিনিটের দিকে শ্যামলী রিং রোডে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের (৮/১ নম্বর ভবন) সামনে অবস্থান নেয় একদল কিশোর গ্যাং। পরবর্তীতে ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটের দিকে তারা সোয়েব ইবনে আলমের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করে। হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি দ্রুত একটি ভবনের ভেতর আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান করলেও, পরে পুলিশের টহল গাড়ি আসতে দেখে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজম সজিব (৩২) এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সামি চৌধুরী জয়সহ (৩০) অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কারণে এলাকার যুবসমাজ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়েই পরিকল্পিতভাবে এই সশস্ত্র হামলার ছক কষা হয়।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ—কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া সামি চৌধুরী জয় এবং আজম সজিব মূলত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক সক্রিয় কর্মী। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তারা কৌশল হিসেবে দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করেন। বর্তমানে তারা যুবদলের পদবি ও পরিচয় ব্যবহার করে মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিশোর গ্যাংয়ের এমন লাগামহীন অত্যাচারে চরম অতিষ্ঠ মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে ফেরা ব্যবসায়ী সোয়েব ইবনে আলম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণনাশের হুমকিতে রয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
কুশল/সাএ
এডমিন 



















