০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ: সোনালি স্বপ্ন এখন কৃষকের গলার ফাঁস

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৪৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • 0

বগুড়ার শেরপুরে হঠাৎ বয়ে যাওয়া দমকা ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। একদিকে বাজারে ফসলের ন্যায্য দাম নেই, অন্যদিকে ঝড়ে মাঠের ফসল মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। বিশেষ করে ধান, ভুট্টা ও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় অনেক কৃষক এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঝড়ে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধান প্রায় ৫৩ বিঘা, ভুট্টা প্রায় ৭৫ বিঘা, সবজি প্রায় ৮ বিঘা জমি। তবে কৃষি বিভাগের মতে, অনেক জায়গায় ফসল হেলে পড়লেও এখনই চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু ফসল রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি এখন বৃষ্টির জলে ভাসছে। মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, ১৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। গতকালের ঝড়ে ১ বিঘা ধান পুরোপুরি হেলে পড়েছে। এই ধান থেকে আর আশানুরূপ ফলন পাওয়ার কোনো আশা নেই। উপজেলার আরেক চাষি আব্দুল মজিদ ধানখেতে জমে থাকা পানির কারণে কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পানির মধ্যে ধান থাকলে ধান ও খড় দুটাই পচে যাবে। খড়টুকু অন্তত বাঁচানোর জন্য আধাপাকা ধানই কেটে ফেলছি। অন্যদিকে ভুট্টা চাষি আবু হানিফ জানান, তার ৩ বিঘা জমির ভুট্টা গাছ ঝড়ে হেলে পড়ায় তিনি এখন ফলন নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন। সবজি চাষি আমজাদ হোসেনের অবস্থা আরও শোচনীয়; তার লালশাকের খেত ঝড়ে মাটির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খাতুন জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে রয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষকদের যেন বড় কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে জমা পানি দ্রুত বের করে দেওয়া এবং হেলে পড়া ফসলের পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। একদিকে অকাল বৃষ্টি, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের তুলনায় ফসলের কম দাম—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে শেরপুরের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

কুশল/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

সোমালিয়া উপকূলে নতুন করে বেড়েছে জলদস্যুতা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

শেরপুরে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ: সোনালি স্বপ্ন এখন কৃষকের গলার ফাঁস

আপডেট সময়ঃ ১১:৪৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার শেরপুরে হঠাৎ বয়ে যাওয়া দমকা ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। একদিকে বাজারে ফসলের ন্যায্য দাম নেই, অন্যদিকে ঝড়ে মাঠের ফসল মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। বিশেষ করে ধান, ভুট্টা ও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় অনেক কৃষক এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঝড়ে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধান প্রায় ৫৩ বিঘা, ভুট্টা প্রায় ৭৫ বিঘা, সবজি প্রায় ৮ বিঘা জমি। তবে কৃষি বিভাগের মতে, অনেক জায়গায় ফসল হেলে পড়লেও এখনই চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু ফসল রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি এখন বৃষ্টির জলে ভাসছে। মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, ১৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। গতকালের ঝড়ে ১ বিঘা ধান পুরোপুরি হেলে পড়েছে। এই ধান থেকে আর আশানুরূপ ফলন পাওয়ার কোনো আশা নেই। উপজেলার আরেক চাষি আব্দুল মজিদ ধানখেতে জমে থাকা পানির কারণে কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পানির মধ্যে ধান থাকলে ধান ও খড় দুটাই পচে যাবে। খড়টুকু অন্তত বাঁচানোর জন্য আধাপাকা ধানই কেটে ফেলছি। অন্যদিকে ভুট্টা চাষি আবু হানিফ জানান, তার ৩ বিঘা জমির ভুট্টা গাছ ঝড়ে হেলে পড়ায় তিনি এখন ফলন নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন। সবজি চাষি আমজাদ হোসেনের অবস্থা আরও শোচনীয়; তার লালশাকের খেত ঝড়ে মাটির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খাতুন জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে রয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষকদের যেন বড় কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে জমা পানি দ্রুত বের করে দেওয়া এবং হেলে পড়া ফসলের পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। একদিকে অকাল বৃষ্টি, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের তুলনায় ফসলের কম দাম—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে শেরপুরের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

কুশল/সাএ