দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। দীর্ঘ চার বছর পর আবারো ফুটবল দুনিয়া মেতে উঠবে ৪০দিনের উন্মাদনায়। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, তিন দলের বিশ্বকাপ আয়োজন, সর্বোচ্চ ১০৪টি ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি স্টেডিয়ামসহ বহু প্রথমের এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মত দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়াম আজ এক মহারণের সাক্ষী হতে চলছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ভাগ্যই তাদেরকে এমন মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
১৬ বছর আগে ২০১০ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেবার উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে নেমেছিল বাফানা বাফানারা। আর আজ ১৬ বছর মেক্সিকো স্বাগতিক দেশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ইতিহাসের কি মধুর মেলবন্ধন!
ম্যাচের ফলাফল অতীতে ১-১ অবস্থায় ড্র হলেও এবারের ফলাফল বেশ ভিন্ন হওয়ারই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গোল করে সাবালালার সেই ঐতিহাসিক নাচ হয়তো আর দেখা যাবে না; কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা দলে রয়েছে একঝাঁক তরুণ ফুটবলার যারা যে কোনো কিছুর বিনিময়ে ম্যাচ জিততে প্রস্তুত।
১৭ বার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মেক্সিকো তাদের বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করছে বেশ কিছু ভালো সংবাদ দিয়েই। তাদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ফুটবলার ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। সেজার মন্তেস, এডসন আলভারেজ, লুইস শ্যাভেজ, এক্সিস ভেগা সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। প্রস্তুতি ম্যাচে সার্বিয়ার বিপক্ষে ৫-১ গোলের বিশাল জয় বেশ আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে তাদের। তবে কোচ হ্যাভিয়ের আগুয়েরে অবশ্য সেরা স্কোয়াড পাচ্ছেন না।
বিশ্বকাপের আগে গোলরক্ষক লুইস এঞ্জেল মালাগোন এবং মিডফিল্ডার মার্সেল রুইজ দুইজনই ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। দলে ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলা মেক্সিকান কিংবদন্তী গোলরক্ষক গুইলারমো ওচোয়া থাকলেও তরুণ রাউল রাঙ্গেলের উপরই ভরসা রাখবেন কোচ। এছাড়া ইংলিশ লিগে খেলা ফুলহ্যামের ফরোয়ার্ড ও মেক্সিকোর তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা রাউল জেমিনেজও দলটির আক্রমণভাগের ধার বাড়িয়েছেন।
মেক্সিকো কোচ তার দল সম্পর্কে বলেন, ‘আমি আমার ৫০ বছরের ফুটবল জীবনে এমন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত আগে আগে দেখিনি। আমি এখানে অনেক থেকেছি কিন্তু এটা সত্যিই অভূতপূর্ব। আর এটাই আমি দলের খেলোয়াড়দেরকে বলেছি এবং তারা এটি বুঝতে পেরেছে। তারা খুব আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভার। তারা একসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে খেলছে একটা পরিবারের মতো।’
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ঠিক আগে র্যাংকিংয়ে ৬০ নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা দলের গুরুত্বপূর্ণ লেফট ব্যাক অবেরে মোদিবা হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠায় বাড়তিভাবে চাঙ্গা করবে দলকে। কোচ হুগো ব্রুস তার সুস্থ হওয়ার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকাও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়াই বিশ্বকাপে এসেছে। থাপেলো মোরেনা ও মোহাউ এনকোতা দুজনই ইনজুরিতে সুযোগ পাননি স্কোয়াডে। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মূল কাণ্ডারি অধিনায়ক ও গোলরক্ষক রোনয়েন উইলিয়ামস। এছাড়াও ইংলিশ লিগে খেলা বার্নলির স্ট্রাইকার লিলে ফোস্টারও দলকে আক্রমণভাগে বল যোগান দিবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোস সবদিক দিয়েই মেক্সিকোকে শক্তিশালী মানছেন। তিনি বলেন, ‘মেক্সিকো এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আগামীকাল আমাদের জন্য ম্যাচটি বেশ কঠিন হবে। আমি এটা নিশ্চিত করতে পারি, আমাদের দল প্রস্তুত আছে এবং তারা ৯০ মিনিটের প্রতি সেকেন্ডে লড়াই করতে প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত কি হয়, দেখা যাক।’
মেক্সিকোর ফর্মটাও বেশ ভালো যাচ্ছে। ২০২৬ সালে এখনো কোন ম্যাচে তারা হারেনি। ঘানা, অস্ট্রেলিয়া ও সার্বিয়ার বিপক্ষে জয় সঙ্গী করেই ঘরের মাঠে খেলতে নামবে মেক্সিকানরা। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা নিকারাগুয়া ও জ্যামাইকার বিপক্ষে ড্র করার পাশাপাশি পানামার বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়কে সঙ্গী করে যাত্রা শুরু করবে বাফানা বাফানারা।
অতীত ইতিহাসও সঙ্গে রয়েছে মেক্সিকোর। আজতেকা স্টেডিয়াম সর্বশেষ মেক্সিকো কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হেরেছিল ২০১৩ সালে হন্ডুরাসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে। এছাড়াও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ১৯৯৪ সালে নরওয়ের বিপক্ষে পর আর কখনো হারেনি মেক্সিকো। পরবর্তীতে সাতটি উদ্বোধনী ম্যাচের ভেতর পাঁচটিতেই তারা জয় পেয়েছে, ড্র করেছে দুইটি ম্যাচ। গ্রুপের অন্য দুটি দল চেক রিপাবলিক ও দক্ষিণ কোরিয়া।
সম্ভাব্য একাদশ
মেক্সিকো একাদশ (৪-৩-৩): রাঙ্গেল, সানচেজ, মোনতেস, আলভারেজ, গালার্দো, গুতিরেজ, ফিদালগো, পিনেদা, আলভারাদো, জেমিনেজ, কুইনোনেস।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ (৪-২-৩-১): উইলিয়ামস, মুদাউ, এমবোকাজি, ওকোন, মোদিবা, এমবাথা, সিথোলে, মোকোয়েনা, এপোলিস, ফোস্টার, মোরেমি।
আরআর/আইএইচএস
এডমিন 














