কেবল নিজের জীবনমানের উন্নয়ন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেছেন, চাকরি জীবনে ব্যক্তি কত সুবিধা পেয়েছেন বা নিজের জীবনে কতটা পরিবর্তন এনেছেন, সেটি বড় বিষয় নয়। বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে কী দিতে পেরেছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রোববার (২১ জুন) চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়।
জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১৬০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অফিস ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, হিসাব সংরক্ষণ, নিরীক্ষা পদ্ধতি, পিপিআর, পিপিএ এবং তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা সবাই একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর রাষ্ট্র চাই। কিন্তু নিজের পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা অনেক সময় অনাগ্রহী থাকি। আমরা চাই অন্যদের পরিবর্তন হোক, কিন্তু নিজের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চাই না। এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে না পারলে তার কোনো মূল্য থাকে না। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা ও সেবার মানদণ্ডও পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই সরকারি সেবাকে মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমি চাকরি জীবনে কী পেলাম বা আমার জীবনের কত উন্নতি হলো, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো আমি রাষ্ট্রকে কী দিলাম। জনগণের করের অর্থে বেতন নিয়ে এবং রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আমরা সমাজের জন্য কী অবদান রাখতে পেরেছি, সেটি প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরি শুধু একটি পদ বা দায়িত্ব নয়; এটি জনগণের প্রতি একটি অঙ্গীকার। তাই সেবাগ্রহীতারা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আজ আপনি যে চেয়ারে বসে সেবা দিচ্ছেন, আপনাকেও একদিন সেবাগ্রহীতার আসনে বসতে হবে। তখন আপনি কেমন আচরণ প্রত্যাশা করবেন, সেটি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, কর্মজীবন শেষে যেন কোনো আক্ষেপ না থাকে যে আরও ভালো কিছু করা যেত। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক অবদান রেখে যাওয়ার মধ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন। সূচনা বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান মীম। প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী।
এমআরএএইচ/এমএমকে
এডমিন 










