০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে যেভাবে ইনজুরির অভিনয়ে সময় নষ্ট কমিয়েছে ফিফার নতুন নিয়ম

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • 2

ফিফার নতুন নিয়মে বিশ্বকাপে মাঠে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। চিকিৎসা নেওয়ার পর খেলোয়াড়দের অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ফুটবলের নিয়মে আনা একটি পরিবর্তন ইতোমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। মাঠে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরানো খেলোয়াড়দের দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল। চিকিৎসক দলও আগের মতো ঘন ঘন মাঠে প্রবেশ করছে না, আর অনেক খেলোয়াড় চিকিৎসা না নিয়েই খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এ পর্যন্ত ১২টি ঘটনায় পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, রেফারি খেলোয়াড়কে সাইডলাইনে গিয়ে এক মিনিটের শাস্তিমূলক বিরতি পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরও কিছুটা বেশি হতে পারে, কারণ টেলিভিশন সম্প্রচারে সব সময় স্পষ্ট বোঝা যায় না যে নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়েছে কি না। তবে পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই মাঠে দৃশ্যমান।

১৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল এসোসিয়েশন বোর্ড (আইএএবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো খেলোয়াড়ের চিকিৎসার জন্য খেলা বন্ধ হলে তাকে অবশ্যই এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। সময় নষ্ট কমানো এবং বল খেলার মধ্যে থাকার সময় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ফিফা যে নতুন পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, এটি তারই একটি অংশ। পরিসংখ্যান বলছে, নিয়মটি কার্যকরও হচ্ছে।

মাঠের বাইরে এক মিনিট থাকার এই ‘শাস্তি’ খেলোয়াড়দের চিকিৎসা নেওয়ার আগে তাদের ব্যথার মাত্রা নতুন করে বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। এর প্রথম উদাহরণ দেখা যায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে, যখন দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারায়।

দ্বিতীয়ার্ধের ৩৬ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার ৮ নম্বর খেলোয়াড় পাইক সেউং-হো পায়ে ব্যথার কারণে ঘাসের ওপর বসে পড়েন। মিশরীয় রেফারি আমিন মোহামেদ তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন তিনি চিকিৎসা চান কি না এবং সতর্ক করেন যে সেক্ষেত্রে তাকে এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে। পাইক চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উঠে দাঁড়ান। কারণ, তখন দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে ছিল এবং অল্প সময়ের জন্যও ১০ জন নিয়ে খেলতে হলে দলটি তিন পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারতো।

যেমন প্রতিটি নিয়মের ব্যতিক্রম থাকে, তেমনি আইএফএবির আইন ‘৫’-এও কিছু বিশেষ পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে মাঠে চিকিৎসা নেওয়ার পর খেলোয়াড়কে এক মিনিট বাইরে থাকতে হবে না। এই ব্যতিক্রমগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হয়েছে।

কানাডা বনাম বসনিয়া ম্যাচের প্রথমার্ধের ১১ মিনিটে মেমিচ একটি কঠিন ফাউলের শিকার হয়ে চিকিৎসা নেন। ফাউল করা ডিফেন্ডার জনস্টন হলুদ কার্ড দেখেন। বসনিয়ার এই মিডফিল্ডারকে মাঠ ছাড়তে হয়নি এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গেই খেলায় ফিরে আসেন। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো খেলোয়াড় এমন ফাউলে আহত হন যার জন্য প্রতিপক্ষকে হলুদ বা লাল কার্ড দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি মাঠে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।

নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচেই দেখা যাক। কুবো হাঁটুতে আঘাত পেয়ে চিকিৎসা চান। রেফারির নির্দেশ অনুযায়ী তিনি মাঠের বাইরে যান, খেলা চলাকালীন সাইডলাইনে চিকিৎসা নেন এবং কয়েক মিনিট পরে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন।

প্রথম রাউন্ডেই আইভরি কোস্টের ১-০ ব্যবধানে ইকুয়েডরকে হারানো ম্যাচে দুটি ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল মিডফিল্ডার ময়সেস কাইসেদোর ঘটনা। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ইকুয়েডরের খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন, যখন তিনি প্রতিপক্ষের অর্ধে পড়ে যান। শুরুতে কাইসেদো নির্দেশটি বুঝতে পারেননি। তাকে সাইডলাইনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় এবং তিনি প্রতিবাদ শুরু করেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে ফিরতে পারবেন। কিন্তু তখনও এক মিনিট পূর্ণ হয়নি। রেফারি ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পর তাকে মাঠে ফেরার অনুমতি দেন।

কয়েকটি ঘটনায় মাঠের বাইরে থাকার সময়কাল:

কুবো (নেদারল্যান্ডস ২-২ জাপান): বদলি হওয়ার আগে ২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড।

ময়সেস কাইসেদো (আইভরি কোস্ট ১-০ ইকুয়েডর): ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

অর্ডোনিয়েস (আইভরি কোস্ট ১-০ ইকুয়েডর): ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

ইসমাইলা সার (ফ্রান্স ৩-১ সেনেগাল): ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স ৩-১ সেনেগাল): ৪৬ সেকেন্ড পরে রেফারি শেষ বাঁশি বাজান।

কাসিমির (ব্রাজিল ৩-০ হাইতি): ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

আকতুরকোগলু (তুরস্ক ০-১ প্যারাগুয়ে): ২৮ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

দিয়েগো গোমেজ (তুরস্ক ০-১ প্যারাগুয়ে): ১ মিনিট ১১ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

শ্লটারবেক (জার্মানি ২-১ আইভরি কোস্ট): ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

তেলমো আরকানজো (উরুগুয়ে ২-২ কেপ ভার্দে): ১ মিনিট ৮ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

কেভিন পিনা (উরুগুয়ে ২-২ কেপ ভার্দে): ১ মিনিট ৮ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

নিয়মটি কীভাবে কাজ করে?

আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকার বিধান:

– খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে এক মিনিটের গণনা শুরু হবে।

– সময় চলমান ঘড়ি অনুযায়ী গণনা করা হবে এবং রেফারি বা তার সহকারী কর্মকর্তারা তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

– খেলোয়াড় শুধুমাত্র রেফারির অনুমতি নিয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন। বল খেলায় থাকলে টাচলাইন দিয়ে এবং বল খেলার বাইরে থাকলে যেকোনো সীমারেখা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করা যাবে।

– আহত খেলোয়াড়কে বদলি করা হলে বদলি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে না।

– প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে যদি এক মিনিট পূর্ণ না হয়, তাহলে খেলোয়াড় দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মাঠে ফিরতে পারবেন। একই নিয়ম প্রযোজ্য: নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময় শুরুর বিরতিতে; অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধের মধ্যবর্তী বিরতিতে; অতিরিক্ত সময় শেষে টাইব্রেকার শুরুর আগের বিরতিতে।

নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে মাঠ ছাড়তে হবে না:

– খেলোয়াড় নিজেই জানান যে তার চিকিৎসার প্রয়োজন নেই, যদি না খেলা তার চোটের কারণে থামানো হয়ে থাকে

– গোলরক্ষক আহত হলে

– গোলরক্ষক ও অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সংঘর্ষে উভয়ের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে

– একই দলের দুই খেলোয়াড়ের সংঘর্ষে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে

– গুরুতর চোট, বিশেষ করে মাথায় আঘাত (যেমন কনকাশন), হৃদরোগজনিত সমস্যা বা জীবন-হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি (যেমন খিঁচুনি, শ্বাসরোধ ইত্যাদি) ঘটলে

– প্রতিপক্ষের এমন শারীরিক ফাউলে আহত হলে যার জন্য হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হয়েছে

– পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে এবং আহত খেলোয়াড় নিজেই পেনাল্টি নিতে যাচ্ছেন

আরআর/আইএন

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ডা. শাফীকে নিয়ে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী

বিশ্বকাপে যেভাবে ইনজুরির অভিনয়ে সময় নষ্ট কমিয়েছে ফিফার নতুন নিয়ম

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ফিফার নতুন নিয়মে বিশ্বকাপে মাঠে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। চিকিৎসা নেওয়ার পর খেলোয়াড়দের অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ফুটবলের নিয়মে আনা একটি পরিবর্তন ইতোমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। মাঠে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরানো খেলোয়াড়দের দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল। চিকিৎসক দলও আগের মতো ঘন ঘন মাঠে প্রবেশ করছে না, আর অনেক খেলোয়াড় চিকিৎসা না নিয়েই খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এ পর্যন্ত ১২টি ঘটনায় পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, রেফারি খেলোয়াড়কে সাইডলাইনে গিয়ে এক মিনিটের শাস্তিমূলক বিরতি পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরও কিছুটা বেশি হতে পারে, কারণ টেলিভিশন সম্প্রচারে সব সময় স্পষ্ট বোঝা যায় না যে নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়েছে কি না। তবে পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই মাঠে দৃশ্যমান।

১৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল এসোসিয়েশন বোর্ড (আইএএবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো খেলোয়াড়ের চিকিৎসার জন্য খেলা বন্ধ হলে তাকে অবশ্যই এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। সময় নষ্ট কমানো এবং বল খেলার মধ্যে থাকার সময় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ফিফা যে নতুন পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, এটি তারই একটি অংশ। পরিসংখ্যান বলছে, নিয়মটি কার্যকরও হচ্ছে।

মাঠের বাইরে এক মিনিট থাকার এই ‘শাস্তি’ খেলোয়াড়দের চিকিৎসা নেওয়ার আগে তাদের ব্যথার মাত্রা নতুন করে বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। এর প্রথম উদাহরণ দেখা যায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে, যখন দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারায়।

দ্বিতীয়ার্ধের ৩৬ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার ৮ নম্বর খেলোয়াড় পাইক সেউং-হো পায়ে ব্যথার কারণে ঘাসের ওপর বসে পড়েন। মিশরীয় রেফারি আমিন মোহামেদ তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন তিনি চিকিৎসা চান কি না এবং সতর্ক করেন যে সেক্ষেত্রে তাকে এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে। পাইক চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উঠে দাঁড়ান। কারণ, তখন দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে ছিল এবং অল্প সময়ের জন্যও ১০ জন নিয়ে খেলতে হলে দলটি তিন পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারতো।

যেমন প্রতিটি নিয়মের ব্যতিক্রম থাকে, তেমনি আইএফএবির আইন ‘৫’-এও কিছু বিশেষ পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে মাঠে চিকিৎসা নেওয়ার পর খেলোয়াড়কে এক মিনিট বাইরে থাকতে হবে না। এই ব্যতিক্রমগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হয়েছে।

কানাডা বনাম বসনিয়া ম্যাচের প্রথমার্ধের ১১ মিনিটে মেমিচ একটি কঠিন ফাউলের শিকার হয়ে চিকিৎসা নেন। ফাউল করা ডিফেন্ডার জনস্টন হলুদ কার্ড দেখেন। বসনিয়ার এই মিডফিল্ডারকে মাঠ ছাড়তে হয়নি এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গেই খেলায় ফিরে আসেন। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো খেলোয়াড় এমন ফাউলে আহত হন যার জন্য প্রতিপক্ষকে হলুদ বা লাল কার্ড দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি মাঠে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।

নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচেই দেখা যাক। কুবো হাঁটুতে আঘাত পেয়ে চিকিৎসা চান। রেফারির নির্দেশ অনুযায়ী তিনি মাঠের বাইরে যান, খেলা চলাকালীন সাইডলাইনে চিকিৎসা নেন এবং কয়েক মিনিট পরে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন।

প্রথম রাউন্ডেই আইভরি কোস্টের ১-০ ব্যবধানে ইকুয়েডরকে হারানো ম্যাচে দুটি ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল মিডফিল্ডার ময়সেস কাইসেদোর ঘটনা। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ইকুয়েডরের খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন, যখন তিনি প্রতিপক্ষের অর্ধে পড়ে যান। শুরুতে কাইসেদো নির্দেশটি বুঝতে পারেননি। তাকে সাইডলাইনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় এবং তিনি প্রতিবাদ শুরু করেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে ফিরতে পারবেন। কিন্তু তখনও এক মিনিট পূর্ণ হয়নি। রেফারি ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পর তাকে মাঠে ফেরার অনুমতি দেন।

কয়েকটি ঘটনায় মাঠের বাইরে থাকার সময়কাল:

কুবো (নেদারল্যান্ডস ২-২ জাপান): বদলি হওয়ার আগে ২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড।

ময়সেস কাইসেদো (আইভরি কোস্ট ১-০ ইকুয়েডর): ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

অর্ডোনিয়েস (আইভরি কোস্ট ১-০ ইকুয়েডর): ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

ইসমাইলা সার (ফ্রান্স ৩-১ সেনেগাল): ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স ৩-১ সেনেগাল): ৪৬ সেকেন্ড পরে রেফারি শেষ বাঁশি বাজান।

কাসিমির (ব্রাজিল ৩-০ হাইতি): ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

আকতুরকোগলু (তুরস্ক ০-১ প্যারাগুয়ে): ২৮ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

দিয়েগো গোমেজ (তুরস্ক ০-১ প্যারাগুয়ে): ১ মিনিট ১১ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

শ্লটারবেক (জার্মানি ২-১ আইভরি কোস্ট): ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

তেলমো আরকানজো (উরুগুয়ে ২-২ কেপ ভার্দে): ১ মিনিট ৮ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

কেভিন পিনা (উরুগুয়ে ২-২ কেপ ভার্দে): ১ মিনিট ৮ সেকেন্ড পরে মাঠে ফেরেন।

নিয়মটি কীভাবে কাজ করে?

আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকার বিধান:

– খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকে এক মিনিটের গণনা শুরু হবে।

– সময় চলমান ঘড়ি অনুযায়ী গণনা করা হবে এবং রেফারি বা তার সহকারী কর্মকর্তারা তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

– খেলোয়াড় শুধুমাত্র রেফারির অনুমতি নিয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন। বল খেলায় থাকলে টাচলাইন দিয়ে এবং বল খেলার বাইরে থাকলে যেকোনো সীমারেখা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করা যাবে।

– আহত খেলোয়াড়কে বদলি করা হলে বদলি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে না।

– প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে যদি এক মিনিট পূর্ণ না হয়, তাহলে খেলোয়াড় দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মাঠে ফিরতে পারবেন। একই নিয়ম প্রযোজ্য: নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময় শুরুর বিরতিতে; অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধের মধ্যবর্তী বিরতিতে; অতিরিক্ত সময় শেষে টাইব্রেকার শুরুর আগের বিরতিতে।

নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে মাঠ ছাড়তে হবে না:

– খেলোয়াড় নিজেই জানান যে তার চিকিৎসার প্রয়োজন নেই, যদি না খেলা তার চোটের কারণে থামানো হয়ে থাকে

– গোলরক্ষক আহত হলে

– গোলরক্ষক ও অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সংঘর্ষে উভয়ের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে

– একই দলের দুই খেলোয়াড়ের সংঘর্ষে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে

– গুরুতর চোট, বিশেষ করে মাথায় আঘাত (যেমন কনকাশন), হৃদরোগজনিত সমস্যা বা জীবন-হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি (যেমন খিঁচুনি, শ্বাসরোধ ইত্যাদি) ঘটলে

– প্রতিপক্ষের এমন শারীরিক ফাউলে আহত হলে যার জন্য হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হয়েছে

– পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে এবং আহত খেলোয়াড় নিজেই পেনাল্টি নিতে যাচ্ছেন

আরআর/আইএন