০৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনপন্থিদের ওপর নজরদারিতে গোয়েন্দা ভাড়া ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • 3

যুক্তরাজ্যের ১২টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর নজরদারি চালাতে একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাকে ভাড়া করেছে। আল-জাজিরা ইংলিশ এবং লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের এক যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মূলত ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারী এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই এই নজরদারি চালানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হোরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতে নজরদারি চালিয়েছে এবং গোপনে সন্ত্রাসবিরোধী ঝুঁকি মূল্যায়ন তৈরি করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে ‘শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। ২০২২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে তারা অন্তত ৪ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মোট ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ প্রদান করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি
  • ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন
  • ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)
  • কিংস কলেজ লন্ডন (কেসিএল)
  • লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স
  • ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড
  • ইউনিভার্সিটি অব লেস্টার
  • ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম
  • ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল
  • কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি
  • ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি

যাদের ওপর চালানো হয় নজরদারি

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি-মর্কিন পণ্ডিত রাবাব ইব্রাহিম আব্দুলহাদিকে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলে তার ওপর গোপন নজরদারি চালানো হয়। এছাড়া লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের লিজজি হবস নামে এক পিএইচডি শিক্ষার্থীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও সংস্থাটি ট্র্যাক করেছে। তিনি গাজাপন্থি হিসেবে পরিচিত।

লিজজি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় যে এতো সুশৃঙ্খলভাবে নজরদারি চালাচ্ছে, তা জেনে তিনি বিস্মিত।

যাদের মাধ্যমে নজরদারি

হোরাস সিকিউরিটি পরিচালনা করেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন হোয়াইটলি এবং কর্নেল টিম কলিন্স। কর্নেল কলিন্স বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে গাজাপন্থি বিক্ষোভকে ‘রাশিয়া ও ইরান পরিচালিত প্রচারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তিনি আন্দোলনকারী বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারেরও দাবি তুলেছিলেন।

মানবাধিকার ও আইনি উদ্বেগ

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি জিনা রোমেরো এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ‘আতঙ্কের পরিবেশ’ তৈরি করেছে।

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জো গ্রেডি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের শিক্ষার্থীদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করতে লাখ লাখ পাউন্ড অপচয় করছে—এটি চরম লজ্জাজনক।’

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাবি করেছে, তারা শুধু নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনসমক্ষে থাকা তথ্যই সংগ্রহ করছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তথ্য অধিকার আইনের অধীনে নজরদারি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ফিলিস্তিনপন্থিদের ওপর নজরদারিতে গোয়েন্দা ভাড়া ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের

ফিলিস্তিনপন্থিদের ওপর নজরদারিতে গোয়েন্দা ভাড়া ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের

আপডেট সময়ঃ ১২:০০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্যের ১২টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর নজরদারি চালাতে একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাকে ভাড়া করেছে। আল-জাজিরা ইংলিশ এবং লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের এক যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মূলত ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারী এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই এই নজরদারি চালানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হোরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতে নজরদারি চালিয়েছে এবং গোপনে সন্ত্রাসবিরোধী ঝুঁকি মূল্যায়ন তৈরি করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে ‘শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। ২০২২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে তারা অন্তত ৪ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মোট ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ প্রদান করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি
  • ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন
  • ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)
  • কিংস কলেজ লন্ডন (কেসিএল)
  • লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স
  • ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড
  • ইউনিভার্সিটি অব লেস্টার
  • ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম
  • ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল
  • কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি
  • ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি

যাদের ওপর চালানো হয় নজরদারি

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি-মর্কিন পণ্ডিত রাবাব ইব্রাহিম আব্দুলহাদিকে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলে তার ওপর গোপন নজরদারি চালানো হয়। এছাড়া লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের লিজজি হবস নামে এক পিএইচডি শিক্ষার্থীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও সংস্থাটি ট্র্যাক করেছে। তিনি গাজাপন্থি হিসেবে পরিচিত।

লিজজি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় যে এতো সুশৃঙ্খলভাবে নজরদারি চালাচ্ছে, তা জেনে তিনি বিস্মিত।

যাদের মাধ্যমে নজরদারি

হোরাস সিকিউরিটি পরিচালনা করেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন হোয়াইটলি এবং কর্নেল টিম কলিন্স। কর্নেল কলিন্স বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে গাজাপন্থি বিক্ষোভকে ‘রাশিয়া ও ইরান পরিচালিত প্রচারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তিনি আন্দোলনকারী বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারেরও দাবি তুলেছিলেন।

মানবাধিকার ও আইনি উদ্বেগ

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি জিনা রোমেরো এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ‘আতঙ্কের পরিবেশ’ তৈরি করেছে।

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জো গ্রেডি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের শিক্ষার্থীদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করতে লাখ লাখ পাউন্ড অপচয় করছে—এটি চরম লজ্জাজনক।’

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাবি করেছে, তারা শুধু নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনসমক্ষে থাকা তথ্যই সংগ্রহ করছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তথ্য অধিকার আইনের অধীনে নজরদারি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/