সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পাওয়াকে ‘মৃত্যুর মতো যন্ত্রণাময়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহীন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে গভীর আঘাত হয়ে এসেছে বলে উল্লেখ করেন।
সোমবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
তিনি লেখেন, ‘একজন মারা গেলে যেমন ফিরে আসে না। আমার জীবন থেকেও এই এমপি না হওয়াটা মানে হলো আমার জীবনে আর এমপি হতে পারবো না। হাজার বার চাইলেও এমপি হওয়া আর ফিরে আসবে না। মৃত্যুর মুখোমুখি হলাম ৫ বার৷ রাজপথে গ্রেফতার হলাম ৮ বার। মামলার আসামি হলাম, জেল খাটলাম। আমার বাড়ি ভাঙলো ১২ বার, আইনজীবী হিসাবে ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা, ২০২৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে মনোনয়ন না পেলেও ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা করেছি, নেতাকর্মীসহ পরিবার সবাইকে নিয়ে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘১৯৮৪ সন থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রাজনীতির জন্য আমার স্বাভাবিক জীবন ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ল’ পড়ে আইনজীবী হয়ে যত টাকা আয় করেছি সব টাকা ঢেলেছি রাজনীতির জন্য। আইন পেশায় আমার ভালো উপার্জন ছিল। এত মিছিল এত মিটিং এত মানববন্ধন অ্যারেঞ্জ করা একজন নারীর জন্য খুবই কঠিন। স্বামীর কাছ থেকে টাকাকড়ি নিয়ে সন্তান ও নাতিদের ঠকিয়েছি। পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি।
‘চোখ থেকে অঝোর ধারায় পানি ঝরছে আর মনে হচ্ছে, আমি আমার নিজের জীবনকে ঠকাতে পারি, কিন্তু সন্তানসহ পরিবারের অন্যদের ঠকানোর তো আমার কোনো রাইট নাই। আমার জন্য আমার স্বামী কোনো ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারে নাই। এজন্য জমিজমা বিক্রয় করে পরিবারের সবাইকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছি। তাই আমার প্রাপ্য আজ মৃত্যু যন্ত্রণা।’
অ্যাডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহীন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। এলাকায় তিনি রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রী হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কয়েকবার তার নেত্রকোনার বাড়ি ভেঙে দিয়েছে বলে জানা যায়। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হন তিনি। তিনি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
এইচ এম কামাল/এমএন/এএসএম
এডমিন 












