জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পড়া না পারায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) উপজেলার রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নাম নাহিদ হাসান (১০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিক্ষক আবু হুরাইরা শিশু নাহিদকে বেদম বেত্রাঘাত করেন। পরে বিকেলে নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান মাদরাসায় গিয়ে ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু হুরাইরা পালিয়ে যান।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক স্থানীয় রামশালা মোড়ে এলে উত্তেজিত জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে। অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আক্কেলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীর বাবা মিজানুর বলেন, ‘শিক্ষক হিসেবে তিনি ছেলেকে শাসন করতে পারেন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যেভাবে মারা হয়েছে তা পুরোপুরি অমানবিক। একজন চোরকেও কেউ এভাবে মারে না। সকালে মারধর করা হলেও সন্ধ্যায় তার শরীরে আঘাতের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে আছে।’
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই পালিয়ে গেছেন। তাকে পালাতে সহায়তা করার যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন। উত্তেজিত লোকজন মিথ্যা অভিযোগে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে।’
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রের শরীরে আঘাতের অবস্থা দেখে আমি নিজেও হতবাক হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএএইচএফ/একিউএফ
এডমিন 










