০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়া হয়নি: গভর্নর

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • 1

সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে এ তথ্যের কোনো মিল নেই।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ খেলাপির আওতায় থাকলেও এর বড় অংশের বিপরীতে দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এগুলো প্রচলিত অর্থে খেলাপি না হয়ে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ বা চুরির মতো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় এসব অর্থ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে খেলাপি ঋণের বিপরীতে সম্পদ থাকে, যা বিশেষ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে আংশিক উদ্ধার করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রকৃত আদায়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, মার্চ মাসে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা ‘হাই-পাওয়ার মানি’ হিসেবে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গভর্নর বলেন, এ ধরনের তথ্য দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ নামে একটি হিসাব রয়েছে, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নগদ প্রয়োজন মেটানো হয়। এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই প্রচলিত।

তিনি জানান, এই হিসাবের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, যা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে অস্থায়ী অর্থের প্রয়োজন হলে ওভারড্রাফটের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সমন্বয় করা হয়।

গভর্নর বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই হিসাবের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমে এসেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনোভাবেই নতুন করে টাকা ছাপানোর বিষয় নয়; বরং সরকারের আয়-ব্যয়ের স্বাভাবিক নগদ ব্যবস্থাপনার অংশ।

গভর্নর সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেশের ক্রেডিট রেটিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে সরকারের ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে এবং বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ গ্রহণেও বাড়তি খরচ পড়তে পারে। এজন্য দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাজু/নিএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়া হয়নি: গভর্নর

আপডেট সময়ঃ ০৬:০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে এ তথ্যের কোনো মিল নেই।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ খেলাপির আওতায় থাকলেও এর বড় অংশের বিপরীতে দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এগুলো প্রচলিত অর্থে খেলাপি না হয়ে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ বা চুরির মতো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় এসব অর্থ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে খেলাপি ঋণের বিপরীতে সম্পদ থাকে, যা বিশেষ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে আংশিক উদ্ধার করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রকৃত আদায়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, মার্চ মাসে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা ‘হাই-পাওয়ার মানি’ হিসেবে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গভর্নর বলেন, এ ধরনের তথ্য দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ নামে একটি হিসাব রয়েছে, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নগদ প্রয়োজন মেটানো হয়। এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই প্রচলিত।

তিনি জানান, এই হিসাবের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, যা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে অস্থায়ী অর্থের প্রয়োজন হলে ওভারড্রাফটের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সমন্বয় করা হয়।

গভর্নর বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই হিসাবের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমে এসেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনোভাবেই নতুন করে টাকা ছাপানোর বিষয় নয়; বরং সরকারের আয়-ব্যয়ের স্বাভাবিক নগদ ব্যবস্থাপনার অংশ।

গভর্নর সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেশের ক্রেডিট রেটিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে সরকারের ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে এবং বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ গ্রহণেও বাড়তি খরচ পড়তে পারে। এজন্য দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাজু/নিএ