শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘মধুফল উৎসব’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিংয়ে পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর, অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হলে পাঠানো হয় চিঠিও। কিন্তু জ্যৈষ্ঠ মাস শেষ হয়ে আষাঢ়েরও অর্ধেক পার হলেও ঘোষিত সেই উৎসব আর বাস্তবায়ন হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল তৎকালীন ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘মধুফল উৎসব’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের আম, লিচু, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল অপরিপক্ব অবস্থায় না পাড়ার আহ্বান জানানো হয়। ফল সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য কমিটি গঠন, বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো এবং ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিংও করা হয়।
তবে ঘোষণার পরও কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো উৎসব আয়োজন করা হয়নি। এরই মধ্যে ফলের মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হলে হল সংসদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌসুমি ফল বিতরণ করা হলেও প্রশাসনের ঘোষিত কেন্দ্রীয় আয়োজন আর বাস্তবায়ন হয়নি।
এরমধ্যে গত ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা পদে পরিবর্তন আসে। তৎকালীন ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম। এরপরও ঘোষিত মধুফল উৎসব আয়োজনের বিষয়ে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে সাবেক ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ফল সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই আগেই ফল পেড়ে ফেলেছে। কয়েকটি হলও নিজেদের উদ্যোগে ফল বিতরণ করেছে। কমিটি গঠন ও তারিখ নির্ধারণে বিলম্ব হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে উৎসব আয়োজন সম্ভব হয়নি। এটি আমার জন্য একটি আফসোস। আমি চেয়েছিলাম, রাবির এই মধুফল উৎসব সারা দেশের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে উঠুক।
বর্তমান ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এ বছর আর মধুফল উৎসব আয়োজন সম্ভব নয়, কারণ মৌসুমি ফলের সময় শেষ হয়ে গেছে। আগামী বছর পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেএইচকে/জেআইএম
এডমিন 



