সিল্কের শাড়ি প্রায় সব নারীরই পছন্দের। সাধারণ দিনের সাজ হোক কিংবা বিয়ে, উৎসব বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে সিল্কের শাড়ির আবেদন কখনোই কমে না। বেনারসি, কাঞ্জিভরম, জামদানি সিল্ক বা মটকা সিল্কের শাড়িরই আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। তবে এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন সঠিক যত্ন।
একটু অসাবধানতা বা ভুলভাবে সংরক্ষণের কারণে দামি সিল্কের শাড়িও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে নিন, কীভাবে যত্ন নিলে আপনার প্রিয় সিল্কের শাড়ি বছরের পর বছর নতুনের মতো থাকবে।
নিয়মিত ভাঁজ বদলে রাখা
সিল্কের শাড়ি দীর্ঘদিন একইভাবে ভাঁজ করে রাখলে ভাঁজের জায়গায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সেই অংশের সুতা দুর্বল হয়ে যায় এবং একসময় ছিঁড়ে যেতে পারে। তাই প্রতি তিন থেকে ছয় মাস পরপর শাড়ির ভাঁজ বদলে দিন। এতে কাপড়ের ওপর চাপ সমানভাবে পড়ে এবং শাড়ির আয়ুও অনেক বেড়ে যায়।
প্লাস্টিকের কভারে রাখবেন না
অনেকেই শাড়িকে ধুলাবালি থেকে রক্ষা করতে প্লাস্টিকের ব্যাগ বা কভারে ভরে রাখেন। কিন্তু এটি সিল্কের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। প্লাস্টিকের কারণে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে আর্দ্রতা জমে কাপড়ের সূক্ষ্ম তন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় পরিষ্কার সুতির কাপড় বা মসলিনের কভারে শাড়ি মুড়ে সংরক্ষণ করলে। এতে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং শাড়ির উজ্জ্বলতাও বজায় থাকে
গাদাগাদি করে শাড়ি না রাখা
আলমারিতে একটার ওপর আরেকটা ভারী সিল্কের শাড়ি স্তূপ করে রাখলে নিচের শাড়িগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে ভাঁজের জায়গা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই শাড়িগুলো ছোট ছোট ভাগে সাজিয়ে রাখুন। ভারী কাজ করা বেনারসি বা কাঞ্জিভরম শাড়ি আলাদা জায়গায় রাখলে আরও ভালো।
মাঝে মাঝে বাতাসে মেলে দেওয়া
অনেকেই বছরের পর বছর শাড়ি আলমারিতে রেখেই দেন। এতে কাপড়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব, ধুলো কিংবা গন্ধ তৈরি হতে পারে। প্রতি কয়েক মাস পরপর শাড়ি বের করে আলো-বাতাসযুক্ত ছায়াযুক্ত স্থানে কিছুক্ষণ মেলে রাখুন। এতে কাপড় সতেজ থাকবে এবং কোথাও সুতা আলগা হয়েছে কি না, সেটিও সহজে বোঝা যাবে।
কড়া রোদে না শুকানো
সিল্কের শাড়িতে বাতাস লাগানো প্রয়োজন হলেও কখনোই সরাসরি রোদের নিচে দীর্ঘক্ষণ রাখবেন না। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি কাপড়ের রং ফিকে করে দিতে পারে এবং তন্তু দুর্বল হয়ে যায়। যদি শাড়ি ভিজে যায়, তাহলে ফ্যানের বাতাসে বা ছায়াযুক্ত জায়গায় শুকিয়ে নিন। এতে কাপড়ের রং ও গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকবে।
ইস্ত্রি করার সময় সতর্ক থাকা
সিল্ক অত্যন্ত কোমল কাপড়। তাই বেশি তাপমাত্রায় ইস্ত্রি করলে কাপড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সবসময় কম তাপে ইস্ত্রি করুন এবং শাড়ির ওপর একটি পাতলা সুতির কাপড় বিছিয়ে নিন। একই ভাঁজের ওপর বারবার গরম ইস্ত্রি চাপিয়ে রাখাও উচিত নয়। এতে সেই অংশ দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
হেয়ার স্ট্রেটনার ব্যবহার না করা
অনেকেই শাড়ির কুঁচি বা আঁচল নিখুঁত করতে হেয়ার স্ট্রেটনার ব্যবহার করেন। কিন্তু এটি সিল্কের জন্য বেশ ক্ষতিকর। স্ট্রেটনারের অতিরিক্ত তাপ কাপড়ের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা নষ্ট করে দেয়। বারবার ব্যবহার করলে সিল্কের তন্তু দুর্বল হয়ে যায় এবং সামান্য টানেই শাড়ি ছিঁড়ে যেতে পারে।

পরার সময়ও সতর্ক থাকা
সিল্কের শাড়ি পরার সময় অতিরিক্ত টানাটানি করবেন না। কুঁচি বা আঁচল ঠিক করার সময় ধীরে ধীরে কাজ করুন। ভারী গয়না বা ধারালো পিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন, কারণ এগুলো সহজেই কাপড়ের সুতা টেনে দিতে পারে।
বেনারসি, কাঞ্জিভরম কিংবা অন্য যেকোনো সিল্কের শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়, অনেক সময় এটি স্মৃতি, আবেগ এবং ঐতিহ্যের অংশ। তাই সামান্য যত্নেই এই মূল্যবান শাড়িগুলো বছরের পর বছর নতুনের মতো রাখা সম্ভব। নিয়মিত ভাঁজ বদলানো, সঠিকভাবে সংরক্ষণ, কম তাপে ইস্ত্রি করা এবং সময়ে সময়েই বাতাসে মেলে দেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই আপনার প্রিয় সিল্কের শাড়ির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ম্যাভুরিস
এসএকেওয়াই
এডমিন 






