০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমার্ধে ডিআর কঙ্গোর চমকে পিছিয়ে ইংল্যান্ড

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • 3

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব-৩২-এ শুরু থেকেই চমক দেখাল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বলের দখল ইংল্যান্ডের থাকলেও প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বেনি সিপেঙ্গার ৭ম মিনিটের একমাত্র গোল এবং গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি-এনজাউয়ের একের পর এক দুর্দান্ত সেভই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

ম্যাচের শুরুটা ছিল ডিআর কঙ্গোর দারুণ আত্মবিশ্বাসী। প্রথম ১০ মিনিটে তারা বলের দখলেও ছিল এগিয়ে এবং ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে। সপ্তম মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম ও একমাত্র গোল। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা অধিনায়ক শঁসেল এমবেম্বা নিখুঁত একটি ক্রস তুলে দেন বক্সে। স্যামুয়েল মুতুসামির বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে সুযোগ পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে জালে বল পাঠান বেনি সিপেঙ্গা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুর্দান্ত সূচনা পায় ডিআর কঙ্গো।

গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ইংল্যান্ড। জুদ বেলিংহ্যাম, ডেকলান রাইস, মার্কাস রাশফোর্ড ও ননি মাদুয়েকেকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে থ্রি লায়ন্সরা। ১৪তম মিনিটে মাদুয়েকের ক্রস বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছালেও তা সামাল দেয় ডিআর কঙ্গোর রক্ষণ। ১৫ মিনিটের পর থেকেই ইংল্যান্ডের আক্রমণের চাপ বাড়তে থাকে।

১৯তম মিনিটে এনতানু এমবুকুর ওপর কঠোর ট্যাকলের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুদ বেলিংহ্যাম। অন্যদিকে ২৭তম মিনিটে দ্রুতগতির ইংলিশ পাল্টা আক্রমণ থামাতে কৌশলগত ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ডিআর কঙ্গোর নোয়া সাদিকি।

৩০তম মিনিটে ডেকলান রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে বেলিংহ্যামের হেড গোলমুখে গেলেও সহজেই বল ধরে ফেলেন এমপাসি-নজাউ। এরপর ইংল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৩৫তম মিনিটে একের পর এক শট নেয় থ্রি লায়ন্সরা।

প্রথমে হ্যারি কেইনের শট ব্লক করেন আক্সেল তুয়ানজেবে। ফিরতি বলে ননি মাদুয়েকে সুযোগ তৈরি করলে নোয়া ও’রেইলির প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর মার্কাস রাশফোর্ডের শট গোললাইন থেকেই ক্লিয়ার করে দেন ডিআর কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা। নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ইংল্যান্ড।

অন্যদিকে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে ডিআর কঙ্গো। ৪৩তম মিনিটে অ্যারন ওয়ান-বিসাকার ক্রস থেকে ইয়োয়ানে উইসা প্রায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলেছিলেন। তাঁর শট ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও বল গিয়ে লাগে পোস্টে। ভাগ্য সহায় না হওয়ায় দ্বিতীয় গোল পায়নি আফ্রিকার দলটি।

প্রথমার্ধের শেষদিকে নাটকীয় মুহূর্তও তৈরি হয়। ৪৪তম মিনিটে ইংল্যান্ডের পেনাল্টির দাবি নিয়ে ভিএআর পরীক্ষা করেন রেফারি। তবে ভিডিও রিপ্লে দেখে তিনি আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন এবং স্পট-কিক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

যোগ করা সময়েও আক্রমণের ঝড় তোলে ইংল্যান্ড। ৪৫+২ মিনিটে ননি মাদুয়েকের ক্রস থেকে বেলিংহ্যামের হেড দারুণভাবে রুখে দেন এমপাসি-নজাউ। এরপর ৪৫+৭ মিনিটে হ্যারি কেইনের ভলিও অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ডিআর কঙ্গোর এই গোলরক্ষক। কর্নার, ক্রস ও বক্সের ভেতরের একাধিক বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামলে নিজের দলকে এগিয়ে রেখেই বিরতিতে যান তিনি।

প্রথমার্ধে বলের দখলে ৫৮ শতাংশ নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে ইংল্যান্ড। তবে সেই আধিপত্যকে গোলে রূপ দিতে পারেনি তারা। অন্যদিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং দুর্দান্ত রক্ষণ ও গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরতে হলে ইংল্যান্ডকে আরও কার্যকর ফিনিশিংয়ের পাশাপাশি এমপাসি-নজাউয়ের দুর্ভেদ্য দেয়াল ভাঙার পথ খুঁজে বের করতে হবে।

আইএইচএস/

ট্যাগঃ

প্রথমার্ধে ডিআর কঙ্গোর চমকে পিছিয়ে ইংল্যান্ড

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব-৩২-এ শুরু থেকেই চমক দেখাল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বলের দখল ইংল্যান্ডের থাকলেও প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বেনি সিপেঙ্গার ৭ম মিনিটের একমাত্র গোল এবং গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি-এনজাউয়ের একের পর এক দুর্দান্ত সেভই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

ম্যাচের শুরুটা ছিল ডিআর কঙ্গোর দারুণ আত্মবিশ্বাসী। প্রথম ১০ মিনিটে তারা বলের দখলেও ছিল এগিয়ে এবং ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে। সপ্তম মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম ও একমাত্র গোল। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা অধিনায়ক শঁসেল এমবেম্বা নিখুঁত একটি ক্রস তুলে দেন বক্সে। স্যামুয়েল মুতুসামির বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে সুযোগ পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে জালে বল পাঠান বেনি সিপেঙ্গা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুর্দান্ত সূচনা পায় ডিআর কঙ্গো।

গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ইংল্যান্ড। জুদ বেলিংহ্যাম, ডেকলান রাইস, মার্কাস রাশফোর্ড ও ননি মাদুয়েকেকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে থ্রি লায়ন্সরা। ১৪তম মিনিটে মাদুয়েকের ক্রস বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছালেও তা সামাল দেয় ডিআর কঙ্গোর রক্ষণ। ১৫ মিনিটের পর থেকেই ইংল্যান্ডের আক্রমণের চাপ বাড়তে থাকে।

১৯তম মিনিটে এনতানু এমবুকুর ওপর কঠোর ট্যাকলের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুদ বেলিংহ্যাম। অন্যদিকে ২৭তম মিনিটে দ্রুতগতির ইংলিশ পাল্টা আক্রমণ থামাতে কৌশলগত ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ডিআর কঙ্গোর নোয়া সাদিকি।

৩০তম মিনিটে ডেকলান রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে বেলিংহ্যামের হেড গোলমুখে গেলেও সহজেই বল ধরে ফেলেন এমপাসি-নজাউ। এরপর ইংল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৩৫তম মিনিটে একের পর এক শট নেয় থ্রি লায়ন্সরা।

প্রথমে হ্যারি কেইনের শট ব্লক করেন আক্সেল তুয়ানজেবে। ফিরতি বলে ননি মাদুয়েকে সুযোগ তৈরি করলে নোয়া ও’রেইলির প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর মার্কাস রাশফোর্ডের শট গোললাইন থেকেই ক্লিয়ার করে দেন ডিআর কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা। নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ইংল্যান্ড।

অন্যদিকে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে ডিআর কঙ্গো। ৪৩তম মিনিটে অ্যারন ওয়ান-বিসাকার ক্রস থেকে ইয়োয়ানে উইসা প্রায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলেছিলেন। তাঁর শট ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও বল গিয়ে লাগে পোস্টে। ভাগ্য সহায় না হওয়ায় দ্বিতীয় গোল পায়নি আফ্রিকার দলটি।

প্রথমার্ধের শেষদিকে নাটকীয় মুহূর্তও তৈরি হয়। ৪৪তম মিনিটে ইংল্যান্ডের পেনাল্টির দাবি নিয়ে ভিএআর পরীক্ষা করেন রেফারি। তবে ভিডিও রিপ্লে দেখে তিনি আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন এবং স্পট-কিক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

যোগ করা সময়েও আক্রমণের ঝড় তোলে ইংল্যান্ড। ৪৫+২ মিনিটে ননি মাদুয়েকের ক্রস থেকে বেলিংহ্যামের হেড দারুণভাবে রুখে দেন এমপাসি-নজাউ। এরপর ৪৫+৭ মিনিটে হ্যারি কেইনের ভলিও অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ডিআর কঙ্গোর এই গোলরক্ষক। কর্নার, ক্রস ও বক্সের ভেতরের একাধিক বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামলে নিজের দলকে এগিয়ে রেখেই বিরতিতে যান তিনি।

প্রথমার্ধে বলের দখলে ৫৮ শতাংশ নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে ইংল্যান্ড। তবে সেই আধিপত্যকে গোলে রূপ দিতে পারেনি তারা। অন্যদিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং দুর্দান্ত রক্ষণ ও গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরতে হলে ইংল্যান্ডকে আরও কার্যকর ফিনিশিংয়ের পাশাপাশি এমপাসি-নজাউয়ের দুর্ভেদ্য দেয়াল ভাঙার পথ খুঁজে বের করতে হবে।

আইএইচএস/