০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঝ আকাশে দুই বিমানের সংঘর্ষ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • 4

মাঝ-আকাশে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ফ্রেমবন্দী করার নেশায় দক্ষিণ কোরিয়ায় ঘটে গেল এক অদ্ভুত বিমান দুর্ঘটনা। ২০২১ সালে দেগু শহরে একটি মিশন চলাকালীন দুটি অত্যাধুনিক এফ-১৫কে (F-15K) যুদ্ধবিমানের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার অডিট ও পরিদর্শন বোর্ডের এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে।

তদন্তে জানা গেছে, কেবল ছবি তোলা এবং ভিডিও করার ঝোঁক থেকেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

ঘটনার দিন উইংম্যান হিসেবে দায়িত্বরত এক পাইলট তার ইউনিটের সঙ্গে শেষ ফ্লাইটটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন। উড্ডয়নের আগের ব্রিফিংয়েই তিনি ছবি তোলার ইচ্ছার কথা জানান। ঘাঁটিতে ফেরার পথে তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। ভিডিওকে আরও আকর্ষণীয় করতে তিনি হঠাৎ বিমানটি উপরে তুলে উল্টে দেন।

এই বিপজ্জনক কসরতের ফলে বিমান দুটি একে অপরের অত্যন্ত কাছে চলে আসে। সামনের পাইলট (লিড) সংঘর্ষ এড়াতে নিচে নামার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি; একটির ডানা ও অন্যটির লেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভাগ্যক্রমে দুই পাইলটই অক্ষত অবস্থায় বিমান দুটি ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।

এই খামখেয়ালিপনার মাশুল দিতে হয়েছে চড়া দামে। বিমান দুটি মেরামতে দক্ষিণ কোরীয় সামরিক বাহিনীর খরচ হয় প্রায় ৮৮০ মিলিয়ন ওন (সাড়ে ৫ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি)। এর দায়ে সংশ্লিষ্ট পাইলটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সামরিক বাহিনী ত্যাগ করে একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সে যোগ দেন। যদিও প্রাথমিকভাবে তার কাছ থেকে মেরামতের পুরো টাকা দাবি করা হয়েছিল, তবে আইনি লড়াই ও তদন্তের পর আদালত ও তদন্ত বোর্ড জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৮৮ মিলিয়ন ওন নির্ধারণ করে।

তদন্ত বোর্ড তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আকাশপথে ব্যক্তিগত ক্যামেরার ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিমান বাহিনীও দায় এড়াতে পারে না। তবে দুর্ঘটনার পর পাইলটের দক্ষতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো এবং তার পূর্বের ভালো রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়। এই ঘটনাটি আধুনিক সামরিক বাহিনীগুলোতে পাইলটদের শৃঙ্খলা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাসুম/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

‘তৃণমূলে ভোট দিলে পড়ছে বিজেপিতে’

মাঝ আকাশে দুই বিমানের সংঘর্ষ

আপডেট সময়ঃ ১১:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মাঝ-আকাশে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ফ্রেমবন্দী করার নেশায় দক্ষিণ কোরিয়ায় ঘটে গেল এক অদ্ভুত বিমান দুর্ঘটনা। ২০২১ সালে দেগু শহরে একটি মিশন চলাকালীন দুটি অত্যাধুনিক এফ-১৫কে (F-15K) যুদ্ধবিমানের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার অডিট ও পরিদর্শন বোর্ডের এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে।

তদন্তে জানা গেছে, কেবল ছবি তোলা এবং ভিডিও করার ঝোঁক থেকেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

ঘটনার দিন উইংম্যান হিসেবে দায়িত্বরত এক পাইলট তার ইউনিটের সঙ্গে শেষ ফ্লাইটটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন। উড্ডয়নের আগের ব্রিফিংয়েই তিনি ছবি তোলার ইচ্ছার কথা জানান। ঘাঁটিতে ফেরার পথে তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। ভিডিওকে আরও আকর্ষণীয় করতে তিনি হঠাৎ বিমানটি উপরে তুলে উল্টে দেন।

এই বিপজ্জনক কসরতের ফলে বিমান দুটি একে অপরের অত্যন্ত কাছে চলে আসে। সামনের পাইলট (লিড) সংঘর্ষ এড়াতে নিচে নামার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি; একটির ডানা ও অন্যটির লেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভাগ্যক্রমে দুই পাইলটই অক্ষত অবস্থায় বিমান দুটি ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।

এই খামখেয়ালিপনার মাশুল দিতে হয়েছে চড়া দামে। বিমান দুটি মেরামতে দক্ষিণ কোরীয় সামরিক বাহিনীর খরচ হয় প্রায় ৮৮০ মিলিয়ন ওন (সাড়ে ৫ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি)। এর দায়ে সংশ্লিষ্ট পাইলটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সামরিক বাহিনী ত্যাগ করে একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সে যোগ দেন। যদিও প্রাথমিকভাবে তার কাছ থেকে মেরামতের পুরো টাকা দাবি করা হয়েছিল, তবে আইনি লড়াই ও তদন্তের পর আদালত ও তদন্ত বোর্ড জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৮৮ মিলিয়ন ওন নির্ধারণ করে।

তদন্ত বোর্ড তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আকাশপথে ব্যক্তিগত ক্যামেরার ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিমান বাহিনীও দায় এড়াতে পারে না। তবে দুর্ঘটনার পর পাইলটের দক্ষতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো এবং তার পূর্বের ভালো রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়। এই ঘটনাটি আধুনিক সামরিক বাহিনীগুলোতে পাইলটদের শৃঙ্খলা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাসুম/সাএ