মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘোষণা দিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে।
তবে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তেহরান কোনো ধরনের অনুরোধ করেনি। তাই ট্রাম্পের এই ঘোষণার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে এবং এর প্রকৃত তাৎপর্য কী; তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা নিয়ে বার্তা সংস্থা তাসনিম পাঁচটি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। সেগুলো হলো-
তাসনিমের মতে, প্রথম সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত এই সংঘাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে নানা কৌশল প্রয়োগ করেও ফল না পাওয়ায় ওয়াশিংটন এখন সংঘাত থেকে সরে আসাকেই শ্রেয় মনে করছে।
দ্বিতীয়ত, এটি একটি কৌশলগত বিভ্রান্তির অংশও হতে পারে। প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র বা তার আঞ্চলিক মিত্ররা পরোক্ষভাবে হামলা চালিয়ে যেতে পারে।
তৃতীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থেকে সরে যেতে চাইতে পারে, কিন্তু ইসরায়েল আলাদাভাবে এই উত্তেজনা ধরে রাখতে পারে। অতীতে লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে।
চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে তা যুদ্ধবিরতির পরও শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিতে পারে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিতও দিয়েছে।
পঞ্চম ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরাসরি যুদ্ধ না চালিয়ে যুদ্ধের ছায়া বজায় রাখতে চায়, যাতে ইরানের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চয়তায় থাকে।
তবে তাসনিমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। কারণ, এখন হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের হাতে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যদি চাপ বজায় রাখতে চায়, তাহলে তেহরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
এডমিন 










